1. admin@admin.com : admin :
  2. harundesk@gmail.com : unlimitednews24 : Md Jibon
  3. unlimitednews24@gmail.com : Md Jibon : Md Jibon
  4. mdnayeem7726@gmail.com : Md Nayeem : Md Nayeem
খিলগাঁও থানার ১নং ওয়ার্ডে আ'লীগের রাজনীতি হ-য-ব-র-ল
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

খিলগাঁও থানার ১নং ওয়ার্ডে আ’লীগের রাজনীতি হ-য-ব-র-ল

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও থানা ভিত্তিক কমিটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হতাশা চরম আকার ধারন করেছে। কয়েকটি ওয়ার্ড ও থানায় দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আবার কোথাও কোথাও ইউনিয়ন ভেঙে একটি ইউনিয়ন থেকে দুইটি বা তিনটি ওয়ার্ড হলেও ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব পালন করছে। যার ফলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। নেতৃত্বের শূন্যতা ও সাংগঠনিক দূর্বলতা চরমে। এদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ নেতাদের কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের উদ্যোগকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মনে করছেন। জানা যায়, কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে। ডেমরা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সাত্তার মাতব্বর জানান, দীর্ঘ ১২ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। কিছু নেতার ব্যাপক উন্নতি হলেও কর্মীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। দলীয় পদ বা পরিচয় দেওয়ার মতো কোনো পদ নেই। পরিচয় শুধু আমি আওয়ামী লীগ করি। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ দেখতে চাই।
জানা যায়, হাসনাত-মুরাদ বিভিন্ন থানা ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়ে যেতে পারেনি। প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও মন্নাফী ও হুমায়ুনও এ সকল থানা ও ওয়ার্ডের নতুন বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে ক্যাসিনো কান্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত সংগঠনের নাম যুবলীগ। দক্ষিণ যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন শ্রেষ্ট সংগঠনের খেতাব প্রাপ্ত নেতা। আর তার অনুকূলে থাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতারাও ছিলেন ব্যাপক বেপরোয়া। সম্রাটের গ্রেফতার ও যুবলীগের ক্ষমতার দাপট কিছুটা নড়বড়ে ও আস্থার সংকট তৈরি হয় ওয়ার্ড ভিত্তিক অনেক নেতার মাঝে। তারা এখন যুবলীগ ছেড়ে মূল স্রোত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পদ পেতে মড়িয়া। ওয়ার্ডের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে কেউ কেউ ব্যাপক টাকার বৃষ্টি ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, নেতাকে সন্তুষ্ট করতে নিয়মিত নগর নেতার বাসা, প্রয়োজনীয় জিনিস, ঘুরতে নেয়াসহ ব্যাপক বিতর্কীত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কখনো আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও নিবেদিত কর্মীদের হটিয়ে শুধুমাত্র নেতার ব্যক্তিগত কাজ করেই ওয়ার্ডের আলোচিত সম্ভাব্য পদপ্রার্থী।

দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আলোচিত খিলগাঁও থানার ১ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডটি বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে।

এ ওয়ার্ডের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সাংঘর্ষিক। এখানে বিএনপি বা জামাত নয় আওয়ামী লীগ যেন আওয়ামী লীগের বিরোধী। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকার কথা থাকলেও এখানে যেন কে কাকে ঘায়েল করবে তার প্রতিযোগিতা চলছে। বন্ধু হিসেবে গুটিকয়েক রাজনৈতিক নেতার দৃশ্যমান বন্ধন লক্ষ্য করা গেলেও; মার্কেট, ফুটপাতের চাঁদা, ডিশ ব্যবসাসহ একাধিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাজনীতিতে কেউ কেউ।
সূত্র বলছে, ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন। বিদায় নেওয়ার আগে করোনায় অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তালিকা করতে গিয়ে বিতর্কীত হয়েছিলেন ব্যাপক। তিনি এখন খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য পদপ্রার্থী। তিনি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় তার ছোট ভাই ট্রফির বিরুদ্ধে কাউন্সিলরের ছোট ভাই হওয়ার সুবাদে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে তার ছোট দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একজনের বিরুদ্ধে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের। অন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনসহ অস্ত্র মামলার তথ্য।
এদিকে, খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মুর্তিমান আতঙ্ক শাহদাত হোসেন সাদু। তিনি বিগত সময় ক্যাসিনো কান্ডে আটক আলোচিত খালেদের ডানহাত হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও রবি সংঘ নামে ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। শাহদাত হোসেন সাদু নিজেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিলেও, জানাযায় এর কোনো সাংগঠনিক বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ ডিশ ব্যবসা দখলের অভিযোগ রয়েছে।
খিলগাঁও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আরেক সম্ভাব্য পদপ্রার্থী খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মাহবুব আলম মাহবুব। জানাযায়, কোনো কাউন্সিলর যেন দলীয় নেতৃত্ব মানে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক না হয় এ জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার। যদি এ নিয়ম কার্যকর হয় তাহলে মাহবুবুল আলম মাহবুব থানা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন না। তার লোক হিসেবে পরিচিত শ্রমিক লীগের গাজীর বিরুদ্ধে রয়েছে লেগুনা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ। যদিও কাউন্সিলর মাহবুব আলম মাহবুব ইতিমধ্যে দায়িত্ব নিয়েই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দখলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও প্রসাশনের বরাবর।
১নং ওয়ার্ডে আরেক আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা মৃত রফিকুল ইসলাম আদা’র ছেলে মামুন। যিনি এক মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রচার করছেন তার পদ শিউর, মহানগর সিনিয়র এক নেতাকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে ব্যাপক আয়োজনে খাইয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে না থাকলেও সুসময়ে তারা সামনের সারিতে কিভাবে আসে এ নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মনে বিশাল ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির বলেন, দলের ত্যাগি ও যোগ্যদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন হবে। কোনো বিতর্কীতদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবু আহমেদ মন্নাফী জানান, মাঠের রাজনীতি থেকে পরিশ্রমীদের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা ভিত্তিক কমিটিতে রাখা হবে। সকলের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই কমিটি গঠন করা হবে।

Sharing is caring!

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

© All rights reserved © 2017-2021 www.unlimitednews24.com
Web Design By Best Web BD