সুজন হাওলাদারঃ ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরেও সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। আদালতের রায় সত্ত্বেও রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ইংরেজি লেখা সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড ঝুলছে। রাজধানীর দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্নস্থানে হরহামেশাই ইংরেজি নামে সাইনবোর্ড বা পরিচিতি থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই।

সাধারণ মানুষের তেমন সচেতনতা না থাকলেও দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তারা যেন ঘুমিয়ে। তবে যারা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করছে, তারা জেনে বুঝে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাংলাকেই অবজ্ঞা করছেন।

দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করতে ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, সরকারি দপ্তরের নামফলক এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়।

সাত বছর পেরোলেও সাইনবোর্ড, লিফলেট, ব্যানারে বাংলার পরির্বতে ইংরেজির দাপটই বেশি। সাইন বোর্ডে বাংলা থাকলেও খুঁজে পাওয়াই দায়।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। অথচ সিটি করপোরেশনের ভিতরেই আইনের লঙ্ঘন। ডিএনসিসির নগর ভবন থেকে বের হলেই দোকান, শপিং মল, অফিস-আদালত ব্যাংক, বীমার সাইনবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুনের বেশিরভাগই ইংরেজিতে লেখা।

রাজধানীতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা সিটি করপোরেশন। ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার সময়ও সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। কিন্তু তা মানছেন না অনেকেই। এ বিষয়ে ধারণাও নেই অনেক ব্যবসায়ীর।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের এটা আগে জানা ছিল না। সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানোর পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ইংলিশটা অর্ধেক থাকবে আর অর্ধেকে থাকবে বাংলা।

উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সিটি করপোরেশন।

ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, প্রতিনিয়তই লাইসেন্স হচ্ছে, এই লাইসেন্সগুলোর শর্ত অনেকেই ভঙ্গ করতে পারেন সেক্ষেত্রে আমাদের যারা এই বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন তারা এই ব্যাপারে রিপোর্ট দিচ্ছেন। আমরা সেইগুলোকে আইনের আওতায় এনে তাদেরকে কারণ দর্শিয়ে লাইসেন্সগুলো বাতিল করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে অভিযান চালায় ডিএনসিসি।

Sharing is caring!