আজ শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় এই ছাত্রনেতা। সেই থেকে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শহীদ আসাদের পুরো নাম আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। ১৯৪২ সালে নরসিংদী জেলায় তার জন্ম। ছাত্রনেতা আসাদ তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা হল শাখা সভাপতি ছিলেন তিনি। আসাদ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ঘনিষ্ঠ অনুসারীও ছিলেন।

১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সমাবেশ থেকে ১১ দফা দাবিতে এবং পুলিশ-ইপিআর বাহিনী কর্তৃক ছাত্র-জনতার ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি পূর্ণ দিবস হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এদিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডাকা হয়। তখনকার গভর্নর মোনায়েম খান ওই দিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

১১ দফা দাবিতে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রের বিশাল মিছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। আসাদসহ কিছু ছাত্র ছত্রভঙ্গ মিছিলটি আবারও সংগঠিত করে ঢাকা হলের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এক পুলিশ কর্মকর্তা আসাদকে বেয়নেটের আঘাতে রাস্তায় ফেলে দেন। এ সময়ই পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান জরুরি বিভাগের সামনে আসাদ শহীদ হন।

করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শহীদ আসাদ দিবস পালিত হবে। এদিন সকালে আওয়ামী লীগ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ৯ সংগঠন, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, ন্যাপ-ভাসানী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এবং শহীদ আসাদ পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগসংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

Sharing is caring!