সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট এবং ভুয়া অডিও কল তৈরির মাধ্যমে মিথ্যা অপবাদ প্রচার, সামাজিক-মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) পল্টন থানার একটি মামলার সূত্র ধরে রাজধানীর মুগদা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসলামুল হক আসলাম ও রাজিবুল ইসলাম রিয়াজ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার ও দুইটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যা ব্যবহার করেই ফেসবুক ও নিজস্ব ওয়েব পোর্টালে মানহানিকর এসব পোস্ট করে আসছে তারা। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মামলা সূত্রে জানা গেছে, পরিচিত এক বড় ভাইয়ের (নুরুল হক) সঙ্গে আসলামুল হকের কথা কাটাকাটি হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজকে তিনি বিষয়টি জানান। এরপরই নিজ কার্যালয় থেকে ফোন করে আসলামুল হকের কাছে কথা কাটাকাটির কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই নেতাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় আসলাম। এক পর্যায়ে আসলাম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির মাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট এবং ভুয়া অডিও কল তৈরি করে তা প্রচারও করে। যে কারণে সামাজিক, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন অভিযোগ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যে মামলার সূত্র ধরেই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজসে বাদীকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই ভুয়া অডিও ক্লিপটি তৈরি করে এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তাদের নিজস্ব ওয়েব পোর্টালেও প্রচার করে।

Sharing is caring!