বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। এই উপলক্ষে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্য। এই উৎসবটি তাদের কাছে সাকরাইন উৎসব নামে পরিচিত।

পৌষ সংক্রান্তির দিনটিকে রাঙাতে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সাকরাইন উপলক্ষে একসঙ্গে ১০ হাজার ঘুড়ি উড়ানো হবে। আগ্রহীদের মাঝে এসব ঘুড়ি সরবরাহ করবে ডিএসসিসি।

‘এসো ওড়াই ঘুড়ি, ঐতিহ্য লালন করি’ স্লোগানে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই উৎসব একযোগে ডিএসসিসি’র ৭৫টি ওয়ার্ডে আয়োজন করা হবে।

মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের নির্দেশে এই ঘুড়ি উৎসব করছে ডিএসসিসির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। ঢাকা দক্ষিণের ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের মোট ১০০ জন কাউন্সিলরকে ১০০টি করে ১০ হাজার ঘুড়ি সরবরাহ করেছে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ বলেন, ‘কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব পুরান ঢাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যান্ত্রিক জীবনের বাস্তবতায় আমরা অনেকেই ভুলতে বসেছি, এটি আমাদের ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে হয়তো এখনো কোথাও কোথাও মেলার নজির রয়ে গেছে। বিভিন্ন নামে অনুষ্ঠিত হয় এসব মেলা। ঢাকার ধামরাইয়ে বংশী নদীর তীরে ‘বুড়াবুড়ির মেলা’ বসার ঐতিহ্য বহু পুরনো। এ মেলায় নানা পদের খাবার নিয়ে বসেন দোকানিরা। দিনভর মেলায় চলে পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানো, পটকা ফুটানো।

পুরান ঢাকায় উৎসবের সকালের অংশে থাকে পিঠা-পুলিসহ নানা ধরনের মিষ্টি খাবারের আয়োজন। সাকরাইন উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে উচ্ছ্বাসিত থাকেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। আয়োজনের কমতি না রাখতে প্রস্তুতি শুরু হয় অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই।

ঘুড়ি উৎসবকে সামনে রেখে শাঁখারীবাজারের দোকানগুলোতে নানা ধরনের ঘুড়ি, সুতা, নাটাইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা।

Sharing is caring!