বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড মণি সিংহের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৯০ সালের এই দিনে তার মৃত্যু হয়।

উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি কমরেড মণি সিংহের জন্ম ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কলকাতায়। ছোটবেলায়ই মায়ের সঙ্গে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার (বর্তমানে নেত্রকোনা জেলা) সুসং দুর্গাপুরে চলে আসেন তিনি। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯২৫ সালে মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯২৮ সাল থেকে কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছে তাকে। ১৯৫১ সালে প্রথমবারের মতো কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নিযুক্ত হন তিনি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাকে প্রবাসী অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা করা হয়। স্বাধীনতার পর পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও অগ্রগামী ছিলেন এই নেতা।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বিবৃতিতে কমরেড মণি সিংহের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই নেতার আদর্শকে শক্তিশালী করা ছাড়া মানুষের মুক্তি ঘটবে না।

দিনটি উপলক্ষে সিপিবি ও গণসংগঠনগুলো আজ সকালে রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে কমরেড মণি সিংহ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাবে। সকালে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের বিভিন্ন জেলা শাখা ও মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংগঠন তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে। বিকেলে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হবে।

এদিকে, করোনার কারণে কমরেড মণি সিংহের নিজ গ্রাম সুসং দুর্গাপুরে সাত দিনব্যাপী মেলা বর্জন করে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কমরেড মণি সিংহ মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দুর্গা প্রসাদ তেওয়ারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

Sharing is caring!