যুদ্ধবাজ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ মরক্কো। যেখানে বরাবরের মতো ফিলিস্তিনিরা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবার এ নিয়ে মুখ খুলেছে ইসলামিক প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরান।

মরক্কোর এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তেহরান বলেছে, ‘ফিলিস্তিনিদের বিশ্বাসঘাতকদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মরক্কো।’

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের আন্তর্জাতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ও সাবেক উপ পরারাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান এক টুইট বার্তায় এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ ও কুদস দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককীকরণের ঘোষণা দিয়ে মরক্কো ফিলিস্তিনি জাতির পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে।’

টুইট বার্তায় আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, ‘আরব বিশ্বের কিছু শাসক হয়তো মুহাম্মাদ (সা.)-এর ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে; কিন্তু এরপরও তাদের কিছুটা হলেও ‘আরব জাতীয়তাবাদী চেতনা’ ও ‘আরব আত্মসম্মানবোধ’ থাকা উচিত ছিল।

শীর্ষ এই ইরানী কূটনীতিক বলেন , ‘আরব দেশগুলোর একের পর এক বিশ্বাসঘাতকতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের পতন অবশ্যম্ভাবী ও ভবিষ্যত মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিবাদীদের কোনও স্থান থাকবে না।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় ঘোষণা দেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছে মরক্কো। ’

ট্রাম্প বলেন, ‘আরেকটি যুগান্তকারী অর্জন হলে। আমাদরে দুই মহান বন্ধু ইসরায়েল ও কিংডম অব মরক্কো পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জনের জন্য এটি বিশাল অগ্রগতি।’

চুক্তি অনুযায়ী, ২০০০ সালে তেল আবিব ও রাবাতে বন্ধ করে দেয়া দুই দেশের লিয়াজো অফিসগুলো পুনরায় চালু করা হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মরক্কো ইসরায়েলিদের জন্য সরাসরি বিমান চলাচলের অনুমোদন দেবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি মরক্কোর বাদশাহকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, মরক্কোর বাদশাহর প্রাসাদ থেকে দেয়া বিবৃতিতে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, টেলিফোনে মিস্টার ট্রাম্পের সাথে আলোচনার সময় সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাদশাহ সম্মতি দিয়েছেন।

মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই তিন আরব দেশ মরক্কো এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ তাদের অধিকার হরণে ইসরায়েলকে আরও উৎসাহিত করবে।

Sharing is caring!