বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপের প্রথম মুখোমুখি লড়াইয়ে জেমকন খুলনাকে হেসেখেলে হারিয়েছিল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। তবে ফিরতি লড়াইয়ে ৫ উইকেটে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল খুলনা। আর এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো তারা।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৪৫ রান করেছিল রাজশাহী। জবাবে ৪ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে মাহমুদউল্লাহর খুলনা।

খুলনা জিতলেও দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান ব্যাট হাতে এদিনও নিষ্প্রভ। ৫ বলে ৪ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অফস্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটে টেনে আনেন। সব মিলিয়ে ৬ ম্যাচে সাকিবের রান ৫৯।

১৪৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলকে শুভ সূচনা এনে দেন খুলনার দুই ওপেনার জহিরুল ইসলাম ও জাকির হাসান। ৫১ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তারা। এর মধ্যে ১৯ রান করেন জাকির। বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েও ৪৩ রানে থামেন জহিরুল। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছক্কা।

জহিরুলের মত ভালো শুরু ছিলো তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসেরও। কিন্তু ২৭ রানে থেমে যান তিনি। ২০ বল খেলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন ইমরুল। দলীয় ৯৪ রানে ইমরুলের বিদায়ের পর ১০৯ রানের মধ্যে আরও ২ উইকেট হারায় খুলনা।

এর মধ্যে ছিলেন সাকিব ও শামিম হোসেন। সাকিব ৪ ও শামিম ৭ রান করেন। সাকিবকে শিকার করেন টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মত মাঠে নামা সাইফউদ্দিন।

পঞ্চম উইকেট পতনের পর দলকে জয়ের বন্দরে নেয়ার দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল হক। ১৯ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করে মাহমুদউল্লাহ। আর ১০ রানে অপরাজিত থাকেন আরিফুল। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রান যোগ করে ৪ বল বাকি রেখে খুলনার জয় নিশ্চিত করেন তারা।

রাজশাহীর মুকিদুল ইসলাম ২টি উইকেট নেন।

টস হেরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেও রাজশাহীর টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার খোলস থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। আমিনুল ইসলাম ইমন ১ রানে সাজঘরে ফেরেন শুভগত হোমের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে। রনি তালুকদার টানা দুই বাউন্ডারিতে ভালো কিছুর আশা দেখালেও পেসার আল-আমিনের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন ১৪ রানে। বাদ পড়া মোহাম্মদ আশরাফুলের চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন মেহেদী হাসান। জ্বলে ওঠেনি তার ব্যাট, ৯ রানে শহীদুল ইসলামের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ৯ রানে।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন দারুণ দৃঢ়তায়। কিন্তু তার ৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় বাজে বলে, বাজে শটে। মাহমুদউল্লাহর একেবারেই ধীর গতির শর্ট বল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। বল ব্যাটের মাঝে লাগলেও শটে ছিল না জোর। ক্যাচ যায় শামীমের হাতে। ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারানো রাজশাহীর বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায় সেখানেই।

সেই দায়িত্ব নেন জাকির আলী অনিক ও কাজী নুরুল হাসান সোহান। শেষ ঝড় তুলে সোহান কাজ করে দেন। সঙ্গী জাকেরও রাখেন অবদান। দুইজনের জুটিতে আসে ৫২ রান। সোহান ২১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান করেন। জাকের ১ ছক্কায় ১৯ বলে করেন ১৫ রান। ১৯তম ওভারে আল-আমিনের ১ ওভারে দুই ছক্কা ও দুই চার হাঁকিয়ে সোহান ২০ রান তুলেছিলেন মুগ্ধতায়।

শুভাগত ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন খুলনার সেরা বোলার। ১টি করে উইকেট নেন আল-আমিন, শহীদুল ও মাহমুদউল্লাহ। সাকিব ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

এই জয়ে ৬ খেলায় ৪ জয় ও ২ হারে ৮ পয়েন্ট খুলনার। ৫ খেলায় ৪ জয় ও ১ হারে ৮ পয়েন্ট চট্টগ্রামের। এক ম্যাচ কম খেলে খুলনার সাথে সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম। রাজশাহী নেমে গেছে টেবিলের চতুর্থ স্থানে। ৬ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৪।

Sharing is caring!