ডেস্ক নিউজঃ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই (পিএসজি)। তারকা খেলোয়াড় নেইমারের জোড়া গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এমন জয়ে লিগের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা জাগিয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে প্রথম লেগে হারের মধুর প্রতিশোধও নেওয়া হলো পিএসজির।

বুধবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে দুই ব্রাজিলিয়ানের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে পিএসজি। নেইমারের গোলে দলটি এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন মার্কাস র‌্যাশফোর্ড। মার্কিনিয়োস এগিয়ে নেওয়ার পর শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ান দলটির সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার।

নেইমারের নৈপুণ্যে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপের শটে বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে চলে যায় বক্সের ডান দিকে, সেখান থেকে জোরালো শটে গোলটি করেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। এর
চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো; আলেস্সান্দ্রো ফ্লোরেন্সির জোরালো শটটি ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়া।

ম্যাচের ৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইউনাইটেড। অঁতনি মার্সিয়ালের শট পিএসজি গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর এক সতীর্থের পা ঘুরে ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরালো শট নেন র‌্যাশফোর্ড। বল ডিফেন্ডার দানিলোর পায়ে লেগে কিছুটা দিক পাল্টে পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে উভয় দল বিরতিতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় ইউনাইটেডের। দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে র‌্যাশফোর্ড মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে সতীর্থের সঙ্গে একবার দেওয়া নেওয়া করে ডি-বক্সে ঢুকে পেনাল্টি স্পটের কাছে মার্সিয়ালকে খুঁজে নেন। কিন্তু ফাঁকায় বল পেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে উড়িয়ে মারেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

এর আট মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে আবারও প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়ায় স্বাগতিকরা। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে কাভানির নেওয়া শট আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে মার্সিয়ালের শট প্রতিহত করেন মার্কিনিয়োস।

৬৪তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফ্লোরেন্সির ক্রসে মার্কিনিয়োসের হেড ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে চলে যায়। এর পাঁচ মিনিট পর আরও ব্যর্থ হননি এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। ডান দিক থেকে আবদু দিয়ালোর পাস ছোট ডি-বক্সের মুখে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টোকা দিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পিএসজি।

পরের মিনিটেই রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ১০ জনের দলে নেমে আসে ইউনাইটেড। আন্দের এররেরাকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রেদ। এক জন কম নিয়ে বাকি সময়ে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি উলে গুনার সুলশারের দল।

নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটে চাপ বাড়ায় পিএসজি। ৮৮তম মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে, কিন্তু তার কোনাকুনি শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টানেন নেইমার। রাফিনিয়ার কাটব্যাক ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে প্লেসিং শটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইস্তানবুল বাসাকসেহিরকে ৪-৩ গোলে হারায় লাইপজিগ।

পাঁচ রাউন্ড শেষে ইউনাইটেড, পিএসজি ও লাইপজিগের পয়েন্ট সমান ৯ করে। শীর্ষে আছে ইংলিশ ক্লাবটি। পরের দুটি স্থানে যথাক্রমে পিএসজি ও লাইপজিগ।

আগামী সপ্তাহে শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হবে পিএসজি-বাসাকসেহির ও ইউনাইটেড-লাইপজিগ।

Sharing is caring!