ডেস্ক নিউজঃ ক্যাসিনো ব্যবসায় সম্পৃক্ত এমন ২৪ ব্যক্তির মালিকানায় ১,৫০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। আর এর মধ্যে ৬৫৫ কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে কমিশন। ২০১৯ সালে চাঞ্চল্যকর ক্যাসিনোকাণ্ডের সময়ে মোট দায়ের করা ২২টি মামলায় এই ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে। তবে এই ২৪ জন ছাড়াও নতুন কয়েক জনের সন্ধান মিলেছে দুদকের অনুসন্ধানে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও নিশ্চিত করেছে দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র। যার নিশ্চয়তা মিলেছে দুদকের উর্ধ্বতনদের বক্তব্যেও।

“আমরা মামলা করেছি। খুব দ্রুতই চার্জশিট দেওয়া হবে। আর সেই অনুযায়ী বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনভাবেই এই অবৈধ সম্পদ তাদের ভোগ করতে দেওয়া হবে না।”

এ এফ এম আমিনুল ইসলাম
কমিশনার (তদন্ত)
দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয় এই ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান। তাতে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, ঠিকাদার জিকে শামীমসহ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কয়েকজন গ্রেফতার হন। তখন মোট ২৪জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

প্রায় এক বছর ধরে চলা এসব মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, জানায় সূত্রটি।

কার হিসাবে কত?

– জিকে শামীমের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে ৩২৪ কোটি টাকা। আর স্থাবর সম্পদ ৪১ কোটি টাকার। যার কোন বৈধ উৎস নেই।
– ইসমাইল হোসেন সম্রাটের দেশের ২টি ব্যাংক হিসাবে ৮৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ২২৭ কোটি টাকা পাচার।
– খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার দেশের ৬টি ব্যাংকের ১৭টি হিসাবে ৩১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ও রাজধানীতে ৩ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট
দুদকের তদন্তে এসব সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। ফলে এসব সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ক্যাসিনো সম্পৃক্ততায় নাম আসা এনামুল হক আরমান, সেলিম প্রধান, লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, রূপন ভুঁইয়া, এনামুল হক এনু, কাজী আনিসুর রহমান, শফিকুল আলম ফিরোজ, মমিনুল হক সাঈদসহ ২১জনের নামে ৯শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ক্যাসিনোকাণ্ডে অভিযুক্তরা হচ্ছেন-

– ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট
– ঠিকাদার জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তার
– বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া
– আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূইয়া
– অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান
– বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া
– কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ
– কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান (পাগলা মিজান)
– কাউন্সিলার তারেকুজ্জামান রাজীব
– বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান
– যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী
– কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ
– যুবলীগ নেতা মো. শফিকুল ইসলাম
– যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান
– ব্যবসায়ী মো. সাহেদুল হক,
– এনআর গ্লোবালের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার
– গণপূর্তের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. মুমিতুর রহমান ও তার স্ত্রী জেসমীন পারভীন এবং
– গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৈাশলী উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রী গোপা দে।

Sharing is caring!