ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ সম্প্রতি সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলে এ কমিটিকে বিভিন্ন ওয়ার্ড, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক বর্তমান নেতৃত্ব ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও একটি চক্র এ কমিটিকে জামায়াত-বিএনপির কমিটি দাবি করে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রী চিত্ত রঞ্জন দাসকে প্রধান অতিথি করে সোমবার সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের ব্যানারে বিজয় মিছিল করা হয়েছে। এ মিছিলে অংশ নেন যুবদলের নেতা। মিছিলের সামনে দেখা যায় বয়স্ক নারীদের। মিছিলে বর্তমান নবগঠিত ছাত্রলীগের কমিটির কেউ উপস্থিত না থাকলেও আওয়ামী লীগের আদর্শ বিরোধী অনেককে দেখা গেছে।

সূত্র বলছে, প্রথমে এ প্রোগ্রামটিকে থানা আওয়ামী লীগের বিজয় মিছিল হিসেবে প্রচার করা হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটা ছাত্রলীগের নব-কমিটির বিরুদ্ধে রূপ নেয়।

বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে কেন থানা আওয়ামী লীগের গুটি কয়েক নেতার অবস্থান জানতে চাইলে জানা যায়, ১৩ সদস্যের ১১জনকেই বিএনপি জামায়াতের দাবি করা হয়েছে প্রথম মশাল মিছিল থেকে। সূত্র বলছে, বর্তমান কমিটি স্থগিত চেয়ে হোটেল৭১ মিটিং ও বহিস্কৃত ব্যক্তিকে নগরের সহ-সভাপতি করার চিঠি চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা। কিন্তু সংগঠনের নীতির বাহিরে কাউকে পদে রাখা হবে না বলে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বুয়া আইডি খুলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ এর নামে পকেট কমিটির অভিযোগ করা হয়েছে। মশাল মিছিলেও আহ্বায়ক কমিটিকে পকেট কমিটি হিসেবে দাবি করা হয়।

এ দিকে, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েছে নগর নেতারা। তারা যাচাই-বাছাই করে, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করেছে। আর নেতাতো সবাই হতে পারে না।

উল্লেখ্য, সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটি থেকে সাহেদীকে সংগঠনিকভাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিস্কার করা হয় এবং মেহেদী হাসান শাকিল দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে আসেন। এ দুজনই ছাত্রলীগের প্রার্থী হন সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের। সব কিছু বিবেচনা করে সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের নব-কমিটিতে রাখেননি নগর ছাত্রলীগ। তাই এ দুজনের নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়েছে।

এদিকে, নব-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল আমিন মিঠু জানান, সবাই আমাদের কমিটি মেনে নিয়েছে। সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন আমাদের কমিটিকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের ঢাকা-৯ আসনের অভিভাবক স্বচ্ছ রাজনীতির বাহক সাবের হোসেন চৌধুরীর সাথে দেখা হচ্ছে না, তবে প্রতিনিয়ত তাকে ম্যাসেজে আমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো বহিস্কৃত ব্যক্তি ছাত্রলীগের পদে বা কোনো সু-সময়ের কোকিল নেতা হয় না এ ছাত্রলীগে নগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান ভাই ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ ভাই তার প্রমাণ দিয়েছে এ কমিটির মাধ্যমে। জামায়ত শিবির বিএনপি মুক্ত কমিটি হওয়ায় বিতর্কীতরাই নগর ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে।

সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন পাবেল জানান, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ বির্নিমানে ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করে রাজনীতি করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো। ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করবো। যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে তারা কেউ ছাত্রলীগের না। অযোগ্যদের মুখে আদর্শের বাণী যা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি জানান, সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের কমিটি আছে, কেউ চাইলেই এ ব্যানার ব্যবহার করতে পারে না, এ বিষয়ে আমাদের সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবো। মেজবাহ বলেন, যারা ভুল ধরিয়ে দিবে, তারাই যদি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন তাহলে রাজনীতি থেকে তরুণদের আস্থা হারিয়ে যাবে।

Sharing is caring!