নানাবিধ কারণে সংকটময় সময়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও মেধাবী গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজনের তাগিদে যুবলীগের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত ৭ম কংগ্রেস এর মাধ্যমে শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল’কে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ নেতৃত্বের প্রতি সারাবাংলার যুবসমাজ আস্থা রেখে সম্ভাবনার নতুন স্বপ্ন দেখেন। বৈষম্য ও অপরাজনীতি মুক্ত একটি যুবলীগের প্রতিচ্ছবি যেন বর্তমান নেতৃত্ব। এমনটাই আজ পরিলক্ষিত। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ একজন বিচক্ষণ ও দৃঢ় সংগঠক হিসেবে নিজেকে মেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে, সংগঠনের অভিজ্ঞ ও তৃণমূল নেতৃত্বের আস্থার ঠিকানা সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল। চাঁদপুরের কৃতিসন্তান, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পুরান ঢাকার লালবাগে নিখিলের রাজনৈতিক সূচনা কালের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়েছেন।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ণে গত ১ বছরে মানবিক রাজনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে যুবলীগ। বিশেষ করে বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে সারা দেশে যুবলীগের মানবিক কর্মকান্ড সকলের নজর কেড়েছে।

চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করেছেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। মানবিক কাজে সন্তুষ্ট হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে যুবলীগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ নেতৃত্ব দায়িত্ব গহণের পর যুবলীগকে আদর্শিক জায়গায় ফেরানোর দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ শুরু করেন শীর্ষ দুই নেতা। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমে দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তারা। শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটে যান শীতার্ত ও অসহায়দের পাশে।

করোনা সংকটে মানবিকতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে যুবলীগ। সারা দেশে করোনায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক যুবলীগ। কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সব মহানগর, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড যুবলীগের প্রতিটি ইউনিট অসহায় মানুষকে সহায়তা করে আসছে। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

যুবলীগের মাধ্যমে সরাসরি সাড়ে ৪৩ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেয়া রমজান ও ঈদ সামগ্রী এবং ভাইরাসের সুরক্ষা সামগ্রী পেয়েছে অন্তত এক কোটি মানুষ।

করোনা ভাইরাসের শুরুতেই সারা দেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় যুবলীগ। প্রতিটি ইউনিটে মাইকিং এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সুরক্ষাসামগ্রী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল ও সাবান বিতরণ শুরু হয়।

 

২৬ মার্চ অঘোষিত লকডাউন শুরুর দিন হতেই শুরু হয় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সারা দেশে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। শ্রমজীবী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বিভিন্ন কারখানা শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালক, প্রতিবন্ধী, অন্ধ, মুচি, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়সহ অসহায় মানুষকে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, সবজি, দুধ) ও নগদ অর্থ মানবিক সহায়তা দেয়া হয়। ট্রাক, রিকসা ও ভ্যানে করে বস্তিবাসীদের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
শ্রমিক সংকটে অসহায় হয়ে পড়ে কৃষক। সারা দেশে কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি তুলে দিয়ে মানবিকতার আরেক নিদর্শন দেখিয়েছে যুবলীগ।

মানবিক কার্যক্রমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরো করোনার ভয়ানক সময়টায় মানবতার পথে মানবিকতার দৃঢ়তায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় না দিয়ে যেকোনো বিষয়ে দ্রুত কার্যকরি ব্যবস্থা বা শস্তি মুলোক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, জেল-জুলুম, বিএনপি-জামাতের নির্মম নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতির মাঠে তৃণমূলের প্রতিচ্ছবি মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রধানত চারটি বিষয়কে সামনে রেখে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষণমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম-নিরপেক্ষতা, সকল ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মূল নীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠা করা।

সংগ্রাম, সংকট এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সংগঠনটি আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠন। বাংলাদেশ প্রতিটি গ্রামে রয়েছে যুবলীগের শক্তিশালী সংগঠন।

গতবছরের ২৩শে নভেম্বর নিখিল ও পরশের নেতৃত্বের সূচনা হয়, আজ সংগঠনের একবছর। ইতিমধ্যে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি উপহার দিতে পেরেছেন তারা। বহুল আলোচিত ক্যাসিনো হোতা বা অনুপ্রবেশকারীদের স্থান নেই এই কমিটিতে।

Sharing is caring!