ক্ষমতাসীন দলের আর্শিবাদে রোকসানা ইসলাম চামেলী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত-৫ নারী কাউন্সিলর হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলেও অভিযোগ রয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতাকারীদের সহয়তা করছেন তিনি। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে মার্কেটের দোকান, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, চাঁদাবাজি ও আলোচিত ক্যাসিনো হোতাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার একাধিক অভিযোগ ওঠেছে। সূত্র বলছে, কাউন্সিলর চামেলীর স্বামী মোঃ আবুল হোসেন টাবু ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, চামেলীর ভাই রফিকুল ইসলাম স্বপন ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দেবর মোঃ ইউসুফ আনন্দ বাজার ইউনিট বিএনপির আলোচিত নেতা। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের রক্ষায় তিনি কয়েকবার সরাসরি প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেছেন। সম্প্রতি রাজধানীতে আলোচিত বিষয় শান্ত রাজনীতিতে অশান্তির বার্তা। একই সময় রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বাসে অগ্নি সংযোগ। জানা যায়, প্রেসক্লাবের সামনে সেই দিন রোকসানা ইসলাম চামেলীর স্বামী ও ভাইয়ের পরিকল্পনায় বাসে অগ্নি সংযোগ করা হয়। এরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয় তাদের খোঁজে। র‌্যাব-৩ এর একটি টিম গত ১৩নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে আনন্দ বাজার ও সেগুনবাগিচার দুটি বাসাতেই অভিযান চালানো হয়। তবে সেই সময় তাদের কাউকেই বাসাতে পায়নি র‌্যাব। এদিকে তথ্য রয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনে চামেলী ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট। চামেলীর মা শাহবাগ থানা বিএনপির নেত্রী ও ভাই রফিকুল ইসলাম স্বপন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০নং ওয়ার্ডের বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গণমাধ্যমে এসেছে, চামেলীর জীবন বিলাসের রহস্যময় অজানা তথ্য। তার জীবন যাপনে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এদিকে, হকারদের পুঁজি করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চামেলী। চামেলী যখন বিলাশ বহুল জীবন যাপন করতে বিদেশ ভ্রমণ করেন, মদ ও নেশা যেন তার সঙ্গী হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিলেন তিনি। মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার ব্যাপক ভূমিকা। এ বিষয়ে ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন জানান, চামেলী আজ আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছেন তার পরিবারকে রক্ষায়। তার স্বামী, ভাই, দেবর প্রায় সবাই বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত। প্রেসক্লাবের সামনে সম্প্রতি বাসে অগ্নি সংযোগ করা হয়, এ ঘটনার সাথে তার ভাই ও স্বামীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমন তথ্য ছিল বলেই তাদের বাসাগুলোতে অভিযান করে।
কাউন্সিলর রতন বলেন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর হয়ে তিনি নাগরিকদের সেবায় দায়িত্ব পালন না করে, পরিবার মানে বিএনপির নেতাদের রক্ষায় ব্যস্ত। জানা যায়, হকারদের থেকে নিয়মিত চাঁদা পাওয়ার কারনে সিটি করপোরেশনের সভায় হকারদের ফুটপাত থেকে সড়ানোর বিষয়টি আলোচনার জন্য আসলে চামেলী এটার বিরোধিতা করেন।

Sharing is caring!