অস্ত্র ও মাদক মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদের ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলামের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র মামলার সাত দিনের রিমান্ড শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে মাদক মামলার সাত দিনের রিমান্ড শুনানি শেষে বিচারক তাদের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড জাহিদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানার অস্ত্র ও মাদক আইনে করা পৃথক মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন। আদালত শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন।

১ নভেম্বর নৌ বাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরআগে ২৮ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুর তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৫ অক্টোবর রাতে হাজী সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও পরদিন ভোরে ওয়াসিফ আহমদ খান বাদি হয়ে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদ, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ ৭ জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন।

ঘটনার পরের দিন এ মালায় ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখার দায়ে কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মো. জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

Sharing is caring!