দেশের মানুষের খাদ্য-পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা, সেই উন্নয়নের চিন্তা চেতনার ভিত্তিপ্রস্তর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।

তিনি আজ রাজধানীর তেজগাঁও এ বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিঃ (মিল্ক ইউনিয়ন) এর ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২০ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা যে সকল কাজ করছি বা পরিকল্পনা তৈরি করছি, বহুমুখী চিন্তা চেতনার অধিকারী বঙ্গবন্ধুই এসবের ভিত্তিপ্রস্তর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দর্শনকে বুকে ধারণ এবং লালন করে আমরা যদি আমাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সততা এবং নিষ্ঠার সাথে পালন করি তাহলে দেশ অবশ্যই সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছবে’।

মিল্ক ভিটা বঙ্গবন্ধুর একটি দর্শন উল্লেখ করে তিনি জানান দেশে দুগ্ধ উৎপাদন বিচ্ছিন্নভাবে হচ্ছে। এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে যাতে করে উৎপাদন, বিতরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে এর সুফল সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া যায়।

মন্ত্রী বলেন, যারা ঘুষ দুর্নীতি করে বিত্তশালী হন, নিজেদের ঐশ্বর্য গড়েন সামাজিকভাবে তাদেরকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যারা দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হবে, তারা একটি অপরাধপ্রবণ সমাজ ব্যবস্থায় গড়ে উঠুক এটি কারো কাম্য নয়, আমরা কেউ তা চাই না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা কার সাথে ঘুরাফেরা বা মেলামেশা করছে এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ সন্তানেরা যদি ভালো মানুষের সাথে উঠাবসা করে তাহলে অবশ্যই ভালো, সৎ ও ন্যায়বান হবে। আর যদি খারাপ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করে তাহলে অন্যায়ের পথে পা বাড়াবে, বিপথগামী হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, জাতির পিতা সুদক্ষ নেতৃত্বে দূরদর্শী চিন্তার মধ্য দিয়ে মিল্ক ভিটা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষের শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধে দুধের কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে মিল্কভিটা। মিল্কভিটাকে ধ্বংস করার জন্য যারা ষড়যন্তে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। কঠোর হস্তে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোঃ রেজাউল আহসান বক্তব্য রাখেন।

মিল্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম উপস্থিত অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!