শারজায় ১ম ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ব্যাটিং দেখলে মনে হবে পাক্কা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট। কোহলির দলের মাত্র ২টি উইকেট শিকার করতে পেরেছে কলকাতার বোলাররা। উল্টো থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি খ্যাত এবি ডি ভিলিয়ার্সসহ যে চারজন নেমেছেন, ব্যাট হাতে সবাই তুলেছেন ঝড়। সেই ঝড়ের জবাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং দেখলে মনে হবে, উইকেটটা বোলারদের জন্য বুঝি স্বর্গ! অথবা রাইডাররা হয়তো ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন! কিংবা খেলতে নেমেছেন টেস্ট ক্রিকেট!

এমন বৈপরিত্যের দিনে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে উড়িয়ে দিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। শাহরুখ খানের দলকে ৮২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে কোহলির দল। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে ব্যাঙ্গালোর। জবাব দিতে নেমে মাত্র ১১২ রান তুলতে সক্ষম হয় কলকাতা।
শারজাহ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বিরাট কোহলি। দুই ওপেনারের তাণ্ডবে চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকে কলকাতার বোলাররা। উড়িয়ে আর গড়িয়ে বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছোটান দু’জন। পাওয়ার প্লে’তে উইকেটের দেখা তো দূরে থাক, ফিঞ্চ-পাড্ডিকালকে সামাল দিতেই হিমশিম খান নাইট বোলাররা। পরে ৩২ রানে পাড্ডিকাল আউট হলে, ভাঙে ৬৭ রানের ওপেনিং জুটি।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ টিকেননি আরেক ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ’ও। আউট হন ব্যক্তিগত ৪৭ রানে।
তবে, উইকেট হারিয়েও এতটুকুও বিচলিত হয়নি ব্যাঙ্গালোর। বিরাট কোহলি-এবি ডি ভিলিয়ার্স জুটিতে রানের ফোয়ারা ছোটে শারজাহ’তে। কোহলি সাবধানী ঢংয়ে ব্যাটিং করলেও, ঝড় তোলেন এ বি ডি ভিলিয়ার্স। ছয় ছক্কায়, ৩৩ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৪।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা সাবলীল ভাবেই করেন দুই নাইট ব্যাটসম্যান শুভমান গিল এবং টম ব্যান্টন। কিন্তু, একাদশে সুযোগ পাওয়ার আনন্দটা বেশিক্ষণ থাকেনি ব্যান্টনের। ৮ রানে বোল্ড হন সাইনির বলে। আর ওয়াশিংটন সুন্দররের ওপর চড়াও হতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন নিতিশ রানা।
একের পর এক উইকেট হারিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন নাইট ব্যাটসম্যানরা। উইকেট পড়ার পাশাপাশি রান তোলার গতিও থেমে যায় তাদের। মরগ্যান, আন্দ্রে রাসেল, দিনেশ কার্তিকদের কেউই পারেননি হাল ধরতে। ত্রিপাঠির ২২ বলে ১৬ রানের ইনিংস দেখে হয়তো টিভিসেটের সামনে ঘুমিয়েও পড়েছেন কেউ কেউ! সবমিলিয়ে কলকাতার কোটার ওভার যখন শেষ হয় ততক্ষণে তাদের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১১২ রান!

Sharing is caring!