ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের স্নাতক ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উলফাৎ আরা তিন্নিকে প্রাক্তন ভগ্নিপতি কর্তৃক রহস্যজনক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

শনিবার (০৩ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঘৃণ্য এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রাক্তন ভগ্নিপতির হাতে নির্যাতিত হয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়ার নিজ বাড়িতে এ রহস্যময় হত্যাকান্ডের শিকার হয় তিন্নি। তার প্রয়াত পিতা ইউসুফ আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে রহস্যজনকভাবে হত্যা করা বড় দুঃখের বিষয়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এ ধরণের নির্যাতনের শিকার হবে; একাত্তরে এর জন্যই কী দেশ স্বাধীন করা হয়েছে?

এছাড়াও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে গ্রেফতারকৃত এবং পলাতক দোষীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার বাস্তবায়নের দাবি জানায়। একই সাথে এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপর কথা বলেন।

বড় বোন মিন্নি অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির দোতালায় তিন্নির সঙ্গে জামিরুল এমন কি করেছে যে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তরতাজা বোনের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখলাম। তিনি অভিযোগ করেন এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমার বোনের সঙ্গে খারাপ কিছু করে হত্যার পর ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিন্নির মা হালিমা বেগম জানান, আমার মেয়ে খুবই মেধাবী। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছিল। ঘটনার দিন সে সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়ায় এক বান্ধবীর বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামিরুলের হুমকির শিকার হয়। আমাদের সন্দেহ তিন্নিকে পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ৮ জন আসামী করে শুক্রবার রাতে নিহত তিন্নির মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে শৈলকূপা থানা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও প্রধান আসামী জামিরুলসহ ৪ জন্য পতালক রয়েছে বলে জানা গেছে।

Sharing is caring!