শিক্ষ, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী ঐতিহ্যের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। একের পর এক বিতর্কীত কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পরছে ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগে মেধাবীদের সংকট ব্যাপক। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্ভুক্ত যাত্রবাড়ী থানা ছাত্রলীগ কমিটি গঠন নিয়ে নানা অভিযোগ এসেছে, মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে কোর্টে। সেই থানা ছাত্রলীগের নেতৃত্বই ওয়ার্ড কমিটি দিতে গিয়ে অজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছে। যোগ্যতাহীন নেতৃত্ব নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগ ৬০নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা করলে, সেই কমিটির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে চাপে পরে যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। ২৪ ঘন্টা না যেতেই সেই কমিটি স্থগিত করা হয়। এদিকে, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান খান এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, যাত্রাবাড়ীতে আতিকুর ভোটার না। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক তার বয়সও নেই। আর এ বিষয়গুলো নিয়েই কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। যা ছাত্রলীগের ইতিহাসে বিরল।
অন্যদিকে, ৬০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কদমতলী থানা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কদমতলী থানা ছাত্রলীগের প্রার্থী মোঃ জিহাদ মাতবর বলেন, ৬০নং ওয়ার্ড অবশ্যই কদমতলী থানা ছাত্রলীগের আওতাধীন। এ কমিটি দেয়া মানে সাংগঠনিক পরিপন্থী বলে মনে করি। এটা রাজনৈতিকভাবে সাংঘর্ষিক।
কদমতলী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম মুন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূল থেকে ওঠে এসে রাজনীতি করতে হয়। আপনি যদি আপনার সীমানা কতটুকু না জানেন তাহলে তো এমন হবেই।
কদমতলী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন উর রশীদ মামুন বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের কাছে সাবেকদের কোন মূল্যায়ন নেই। তাই এ নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলারও কিছু নেই।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমানকে কয়েকবার কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিপন হোসেন ফাহিম বলেন, বিষয়টি আমাদের না জানার ভুল। কমিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে স্থগিত করা হলেও সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানান তিনি।

Sharing is caring!