মায়ের দুধে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয় না : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

মায়ের দুধে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয় না। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরও একজন মা তার শিশু সন্তানকে মুখে মাস্ক পরে সতর্কতার সঙ্গে দুধ পান করাতে পারবেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জাহিদ মালেক। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ সফল করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থ জাতি গঠনে মায়ের দুধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে শিশুর দেহে উত্তম প্রতিষেধক তৈরি হয়। আজ ৯ আগস্ট থেকে আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করবে বাংলাদেশ। এবারের এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘মাতৃদুগ্ধদানে সহায়তা করুন- স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়ুন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ালে নবজাতকের মৃত্যুহার ৩১ শতাংশ কমানো সম্ভব। শিশুকে পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান মায়ের দুধে থাকে। এটি টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জাহিদ মালেক বলেন, গুঁড়াদুধ ও প্যাকেটজাত দুধ শিশুকে খাওয়ালে মায়ের দুধ খাওয়ানোর তুলনায় শিশুর ডায়রিয়ায় ১০ গুণ এবং নিউমোনিয়ায় ১৫ গুণ মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা পরীক্ষার কীটের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ কীট মজুদ রয়েছে। কাজেই জ্বর সর্দি দেখা দিলেই সবাইকে করোনা পরীক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর হার কমেছে। এটি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সফলতা। এখনো হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ রোগীর জন্য নির্ধারিত আসনের শতকরা ৬০ ভাগ খালি রয়েছে। মানুষের মধ্যে এখন একটি আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এ কারণে এখন সাধারণ জ্বর সর্দি হলেও কেউ পরীক্ষা করতে আগ্রহী হচ্ছে না। অনেকে মনে করছেন, এটি এমনিতেই ভালো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ প্রমুখ।

Sharing is caring!