মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন হাজার ১১১ জনে। এছাড়া একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৭৭২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হল।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৬১৪টি। এর মধ্যে কভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৭২ জন।

নাসিমা সুলতানা আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ২ হাজার ১৭৬ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় যে ২৮ জন মারা গেছেন তাদের সবার মৃত্যু হাসপাতালেই হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে বিশ্বজুড়ে করোনার অব্যাহত তাণ্ডবে পৌনে ৭ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত একদিনে মারা গেছে ৬ হাজারের অধিক রোগী। পূর্বের তুলনায় বেড়েছে সংক্রমণের হারও। যার শিকার পৌনে ২ কোটি মানুষ। যাদের অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, মেক্সিকো ও পেরুর মতো দেশগুলোর।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ ঝরেছে বিশ্বের ৬ হাজার ২২১ জন মানুষের। এতে করে মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬২ জনে ঠেকেছে। একই সময়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

তবে, আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখ ৩৮ হাজার ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছেন। এতে করে মোট বেঁচে ফেরার সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৮০৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হন ৮ মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Sharing is caring!