সংসদ সদস্যদের কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এথিকস কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন সরকার দলীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের সিংহভাগ সদস্যই ব্যবসায়ী। ফলে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালনে স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) হওয়াটা স্বাভাবিক। সে জন্যই সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা আচরণবিধি এবং ইথিকস কমিশন থাকা প্রয়োজন।

কানাডার বাংলা পত্রিকা নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া ‘শওগাত আলী সাগর লাইভ’ এ অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

‘সংসদ সদস্যদের জন্য সুশাসন কেন নয়’- শিরোনামে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা এবং টরন্টো সময় সকাল ১১টায় এই লাইভটি ফেসবুক এবং ইউটিউবে সম্প্রচারিত হয়।

সাবেক মন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, পৃথক আইন প্রণয়নের কিংবা সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধন করে সেখানে ইথিকস কমিশন গঠনের বিধান এবং সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি যুক্ত করা যায়।

সাবের হোসেন চৌধুরী ২০১০ সালে ‘সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি আইন’ নামে বেসরকারি একটি বিল জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন। সেই বিলটির অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, নিয়মানুসারে কোনো বেসরকারি বিল সংসদের যে অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়, সেই অধিবেশনে পাশ না হলে পরবর্তীতে সেটি আর কার্যকর থাকে না। যেহেতু এই বিলটি ওই সময় সংসদে পাশ হয়নি কাজেই সেটির কার্যকারিতা থাকেনি।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে তিনি পূণরায় বিলটি সংসদে তুলবেন। ইথিকস কমিশনের রুপরেখা সম্পর্কে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কমিশনটি হতে হবে স্বাধীন এবং ক্ষমতাসম্পন্ন। কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন দলের সদস্য নয়, সকল দলের সদস্যদের সমন্বয়ে এই কমিশন গঠন করতে হবে বলে তিনি মত দেন।

সেই সময়ে বিলটি কেন পাশ হয়নি জানতে চাওয়া হলে সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, সম্ভবত সংসদ সদস্যরা এই বিলটিকে ভালোভাবে নেননি। তারা হয়তো ভেবেছেন তাদের কাজের জবাবদিহিতার জন্য আইন করতে হবে কেন।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই ধরনের আচরণবিধি এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা আছে। এই ধরণের ব্যবস্থা থাকলে সংসদ সদস্যদের মর্যাদ বরং বাড়ে।

Sharing is caring!