শাজাহান খানের মেয়ের ভুল রিপোর্টের দায় নিলো ল্যাব

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ের নেগেটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়। ভুলবশত নিগেটিভ রিপোর্ট দিলেও প্রকৃত রিপোর্ট পজিটিভ। এই ভুলের দায় স্বীকার করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ভুলের দায় স্বীকার করেন। তার দাবি, ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল।’

পরিচালক বলেন, প্রথমে যেটি যায় সেটি নেগেটিভ একটি রিপোর্ট যায়। দ্বিতীয় দফায় যাত্রীদের রিপোর্ট যখন আমরা সফটওয়্যারে এন্ট্রি দিতে যাবো, তখন সামগ্রিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা যায় ওই রিপোর্ট আসলে নেগেটিভ না। সেটি পজিটিভ। তখন আমাদের সমন্বয়কারী সব রিপোর্টের প্রিন্ট কপি বের করে সব রিপোর্ট আমার স্বাক্ষর দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবার প্রস্তুত করেন এবং আগের মতো ইমেইলে পাঠিয়ে দেন। তখন এই ডাটা আমরা সফটওয়্যারে এন্ট্রি করে দেই। সেখানে ঐশী খানের ফলাফল পজিটিভ হিসেবেই এন্ট্রি করা হয়।

তিনি বলেন, এমআইএস থেকে অটো জেনারেট হয়ে রিপোর্ট ডিএনসিসি বুথে যায়। কিন্তু সেদিন যেহেতু আমাদের এখানে একটি সমস্যা ছিল, তাই আমরা রিপোর্টগুলো সরাসরি এমআইএস এ পাঠাতে পারিনি। সরাসরি ইমেইলে পাঠাই। কিন্তু ডাটা এন্ট্রির সময়ে সফটওয়্যারে পজিটিভ করাই ছিল। তিনি (ঐশী খান) নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়েই বিমানবন্দরে যান। আমরা যে ইমেইল দিয়েছিলাম তার ভিত্তিতেই ইমিগ্রেশন বলে উনি পজিটিভ। ঐশী খান যেই রিপোর্ট হাতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এই রিপোর্ট আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভুল করে করা হয়েছিল। যেটি আমরা সংশোধন করেছি পরবর্তী ইমেইলের মাধ্যমে।

দায় স্বীকার করে পরিচালক আরও বলেন, আমাদের এখানেই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলের জন্য ওনার কাছে নেগেটিভ রিপোর্টটি যায়। এর কারণে জনসম্মুখে তিনি হেয় হয়েছেন। সেটা আমরা স্বীকার করি। আমরা এটি আরও খতিয়ে দেখছি। যিনি ভুলটি করেছেন তিনি সাময়িক সময়ের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত। তার বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই ব্যবস্থা নেবো।

এর আগে সোমবার দুপুরে নিজের কোভিড টেস্টের রিপোর্ট সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান। দুপুর ১২টার দিকে শাজাহান খান ও ঐশী খান স্বাস্থ্য অধিদফতরে উপস্থিত হয়ে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের কাছে তাদের অভিযোগের চিঠি জমা দেন।

রোববার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন যেতে বিমানবন্দরে যান ঐশী খান। ইমিগ্রেশন পুলিশকে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখান তিনি। কিন্তু ইমিগ্রেশন পুলিশ অনলাইনে তার রিপোর্ট পরীক্ষা করলে দেখা যায় তিনি করোনা পজেটিভ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদিত কেন্দ্রে করোনা তার মেয়ে করোনা পরীক্ষা করেছিলেন বলে জানান তিনি। ভুল রিপোর্টের কারণে পরিবারসহ অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি তার।

Sharing is caring!