যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ত্রাণ দেওয়ার জন্য সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা কমাতে চেয়েছিল রাশিয়া। তাদের সমর্থন করেছিল চীন। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেছে। খবর এপি, রয়টার্স ও ডয়চে ভেলে’র।

তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার মধ্যে দুইটি জায়গা দিয়ে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। রাশিয়া চেয়েছিল, সংখ্যাটা কমিয়ে এক করা হোক। জার্মানি ও বেলজিয়াম আগে একটি খসড়া প্রস্তাব এনেছিল। মঙ্গলবার যে প্রস্তাবের ওপর রাশিয়া ও চীন ভেটো দেয়। তারপরই রাশিয়া এই প্রস্তাব আনে। প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রশিয়ার দরকার ছিল ৯টি ভোট। কিন্তু তারা মাত্র চারটি ভোট পায়। নিজেদেরটা ছাড়া চীন, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অ্যামেরিকাসহ সাতটি দেশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। চারটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অধিকারে থাকা এলাকায় দুইটি জায়গা দিয়ে জাতি সংঘের ত্রাণ পৌঁছয়। বাব-আল-সালাম এবং বাব-আল-হাওয়া। ২০১৪ থেকে এই ব্যবস্থা চালু আছে। এই দুই জায়গা দিয়েই লাখ লাখ দুর্গত সিরীয়র কাছে ত্রাণ পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গৃহহীন দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ৷ এখানকার প্রত্যেক শিশুর নিজেদের গল্প রয়েছে৷ রনিম বারাকাত এর বয়স ৯ বছর৷ সে এসেছে সিরিয়ার হামা থেকে৷

ভোটাভুটির পর জার্মানি ও বেলজিয়াম যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘লাখ লাখ লোক নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাঁদের কাছে যত বেশি সম্ভব মানবিক সাহায্য পৌঁছনো যায়, তত ভাল। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব।’ জার্মানির বিদেশমন্ত্রীও রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এর ফলে সিরিয়ার মানুষদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। ত্রাণ পাঠানো সংকুচিত করার এই বদ্ধ মানসিকতার অর্থ হলো লোকের জীবন নিয়ে খেলা করা।’ আগামী শুক্রবারের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদকে একমত হয়ে ঠিক করতে হবে যে, এরপর সিরিয়ায় ত্রাণ পৌঁছনোর জন্য কী ব্যবস্থা চালু থাকবে।

Sharing is caring!