সুনামগঞ্জে আউশ ও আমন চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

অতি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সদর উপজেলার আমন চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আউশ ধানের খেত দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় এগুলো থেকে আর ধান উৎপাদন হবে না। জমিগুলো থেকে বন্যার পানি সরে গেলেও উপযোগিতা হারিয়েছে ধান উৎপাদনে।

গত ২৭ জুন থেকে সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় অন্যান্য ফসলের মতো আউশ ধানের খেত ও আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। বীজ তলা ও আউশ ধানের খেত পানিতে ডুবে থাকায় এগুলো সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় ৩ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা নতুন করে আমনের বীজতলায় আমন ধানের বীজ রোপন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রসুলপুর, গৌবিন্দনগর, মজুমদারি, লালারগাঁও, আদুখালী, পুকুরপাড়, মাঝাইর, পলাশগাও, ছয়হারা, রণবিদ্যা, রংপুর, তেলিকোনা, কুটিপাড়া, তালেরতলসহ ১৫ গ্রামের আমন চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কৃষকরা বলেন, জমিতে আউশ ধান লাগানো হয়েছিল, যার পুরোটা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। এখন আবার নতুন করে আমন ধানের বীজ তলা তৈরি করতে হচ্ছে। এছাড়া ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বন্যার আগে আমন ধানের বীজ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু চারাগুলো বড় হওয়ার আগেই পানিতে তলিয়ে যায়।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের বিনামূলে ধানের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া আউশ ধানের চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

Sharing is caring!