আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী মরণাতঙ্ক করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির পাঁচমাস পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশে উহান শহর থেকে কোন এক প্রাণির মাধ্যমে প্রাণ সঞ্চার হয় করোনার।

উৎপত্তিস্থল চীনসহ বিশ্বের প্রায় সবদেশে হানা দেয়া ভাইরাসটির শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত পৃথিবী ছেড়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৬১ হাজারের বেশি মানুষের দেহে। তবে, আশার কথা হলো, প্রায় অর্ধেক মানুষ বেঁচে ফিরেছেন।

ইউরোপ-আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়া আর সবশেষ তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকায়। উৎপত্তিস্থল চীনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ করোনার লাগাম টেনে ধরতে পারলেও ব্যর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সর্বোচ্চ আক্রান্তের দেশগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের।

আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার শিকার এখন পর্যন্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৩ জন মানুষ। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৪০ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৪ হাজার ৮৪ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে পৃথিবী ছেড়েছেন বিশ্বের ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০৬ জন মানুষ। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৭ জন।

এর মধ্যে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৭ জনে ঠেকেছে। আক্রান্ত ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২০ জন। এর মধ্যে আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।

প্রতিদিনের আক্রান্তের হারে শীর্ষে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩০ হাজার ১০২ জনের দেহে মিলেছে করোনা সংক্রমণ। এতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে সেখানে ২৮ হাজার ৮৪৯ জনের।

আক্রান্তের তালিকায় তিনে থাকা রাশিয়ায় করোনার শিকার ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৫ জন মানুষ। সে তুলনায় অবশ্য প্রাণহানি অনেকটা কম পুতিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রাণহানি হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৫ জনের।

নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ প্রায় ৮৬ হাজার ৩০৮। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২৭ হাজার ১২৫ জনের।

প্রাণহানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ ২ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ও আংশিক লকডাউনে থাকা ইতালিতে প্রাণহানি ৩৩ হাজার ৩৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আক্রান্ত ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৪ জন। এছাড়া, আক্রান্ত ও প্রাণহানি কমেছে ইউরোপের দুই রাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্সে।

আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ভারতে। সংক্রমণে এবার জার্মানকে ছাড়াতে যাচ্ছে দেশটি। এর আগে চীন, ইরান ও তুরস্ককে ছাড়িয়ে যায় মোদির দেশ। যেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ছুঁই ছুঁই। প্রাণ গেছে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ১৮৫ জনের।

আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত করোনার শিকার ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন ৯ হাজার ৩৭৫ জন।

Sharing is caring!