আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ নিরব ঘাতক করোনায় দিশেহারা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। প্রতিদিনের আক্রান্তের হারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরই এখন দেশটি। এমতাবস্থায় সেখানে আবারও একদিনের মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, পাল্লা দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোয় ভেঙে পড়তে বসেছে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। ইতিমধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ শহর সাও পাওলোসহ কয়েকটি রাজ্যে দেখা দিয়েছে চিকিৎসা সংকট। প্রতিদিনিই হাজার হাজার আক্রান্তে ৯০ শতাংশ হাসপাতালগুলোর বেডই পূর্ণ। অন্যদিকে, কম পরীক্ষা করায় শনাক্ত কম হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রাণহানি। এতে করে প্রাণহানি বেড়ে ১৮ হাজার ছুঁই ছুঁই। নতুন করে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এতে করে আক্রান্ত বেড়ে ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫ জনে পৌঁছেছে।

দেশটি ইতিমধ্যে করোনার আঘাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির দেশ যুক্তরাজ্য, মৃত্যুপুরী ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিকে ছাপিয়ে গেছে। আক্রান্তে তিনে থাকা ইউরোপীয় স্পেনে নিয়ন্ত্রণে এখন করোনা। তাই, অবস্থার উন্নতি না হলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্পেনকেও ছাড়িয়ে যেতে বোলসোনোরের দেশ।

বিবিসি বলছে, ‘প্রথম দিকে সরকার গুরুত্ব না দিলেও শেষ পর্যন্ত নরম হতে শুরু করেছে ব্রাজিল সরকার। করোনা সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনোরো।’

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা থাকলেও ছিল না জরুরি অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘পরীক্ষা সীমিত হারে করার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বেশি সংখ্যক মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ হবে।’

Sharing is caring!