সুজন হাওলাদারঃ কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের স্বাভাবিক জীবন মান থমকে গেছে। সারা বিশ্বর ন্যায় বাংলাদেশেও এর প্রভাবে খেটে খাওয়া, দিনমজুর, অসহায় দরিদ্র মানুষের ক্ষুধার কষ্ট প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। যারা ইচ্ছে করলেই মানুষের কাছে সাহায্যের হাত পাততে পারেন না। তাই বাংলাদেশের সরকারও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এই সংকটময় মুহূর্তে যারা সরাসরিভকবে মানুষের জন্য কাজ করার দায়িত্ব পান এদের অনেকেই নিজের বা আত্মীয় স্বজনদের জন্য হাতেমতাই হয়ে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। আবার কিছু কিছু সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রয়েছেন যারা নিজের সম্পদ নষ্ট করে হলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন। তবে অনেক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়ে সামাজিক সংগঠন গুলো ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। দক্ষিণ সিটির ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ডে বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কয়েকদিন রান্না করা খাবার বিতরন করেন ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, লেখক ও আওয়ামী যুবলীগের ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দেশ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি নূরে আলম জীবন প্রায় আড়াইশত মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরন করেন। শিশুদের জন্য দুধ বিতরন করেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে পথশিশুদের মাঝে নতুন জামা কাপড় ও ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরন করবেন। ২০০ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরনও করেন তিনি। সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ৮০০ পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেন। আর্থিকভাবেও অনেককে সাহায্য-সহযোগিতা করছেন নিয়মিত গোলাম মোস্তফা (বার্বি)। ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মনির হোসেন প্রায় ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ মাহতাব হোসেন তানি প্রায় ২৮০০ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। এর ভেতর প্রায় ৩০০ দলীয় অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা করেন অনেকটা গোপনীয়ভাবে রাতের আধারে। এদিকে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি সমর্থীত হওয়ায় ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না বলে এলাকাবাসীর দাবি। বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম হোসেনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেন। জানা যায়, খাদ্য সামগ্রী দেই দিচ্ছি বলে সাধারণ মানুষকে কয়েক দফায় ঘোরানোর পর মানুষের তোপের মুখে পরেন তিনি। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী জানান তারা কোনো ধরনের সহায়তা না পায়নি, যার ফলে বিএনপির নেতা ও কাউন্সিলর গোলাম হোসেনকে অবরুদ্ধ করে কয়েক ঘন্টা বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে রাখে সাধারণ মানুষ। এ সময় ইট পাটকেলও নিক্ষেপ করেন সাধারণ মানুষ। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন দায়িত্ব না নিলেও মানুষের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কয়েকশ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন। যদিও যুবলীগ-ছাত্রলীগ তার থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। তবে জাহাঙ্গীর হোসেন বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর গোলাম হোসেনকে বলেছিলেন যে দুজন মিলে মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তাগুলো দেওয়ার জন্য, গোলাম হোসেন তার সেই কথা রাখেননি বলে অভিযোগ তার। সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগ নেতা মিঠু কয়েক দফায় খাদ্য সামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরন করেন। ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সজিব হোসেনও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান তারেক পরামর্শমুলোক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করেন। ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের পক্ষ থেকেও খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।

৪নং নিয়ে অভিযোগঃ

কয়েক দফায় ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি একাধিক ব্যক্তি নিলেও কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা পায়নি অনেকেই। সরকারি সহায়তার কথা গণমাধ্যমে যেভাবে প্রচার হয় তার কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ। সেক্ষত্রে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। যার প্রতিফলে বিএনপি কমিশনারকে অবরুদ্ধ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটে। জানা যায়, ওয়ার্ডটি তুলনামূলক বড়। জনসংখ্যাও বেশি। এ একটি সমস্যা সকলের কাছে ত্রান না পৌঁছানোর, তবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কেউ খাবারের কষ্টে থাকবেন না। তাহলে ত্রাণ গুলো যাচ্ছে কোথায়?

৫নং ওয়ার্ডঃ-

নতুন-পুরনো কাউন্সিলর এর মাঝে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকলেও ত্রাণের সঠিক বন্টন নিয়ে নানা অভিযোগ। কাউন্সিলরা যাদের দিয়ে ত্রাণ বিতরণের অসহায়দের তালিকা করেন তারাই নাকি নিজেদের পছন্দের লোক ছাড়া কারো নামে ত্রাণ দেন না। তবে ওয়ার্ডটি ঘুরে জানা গেছে, নতুন-পুরনো কাউন্সিলর মিলে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে এলাকাভিত্তিক ত্রাণ কমিটি করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিদায়ী কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ নিজে দুয়ারে দুয়ারে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেও বিশেষ ওএমএস তালিকা তৈরি নিয়ে নাকি পছন্দের মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন এমন অভিযোগ না পাওয়া অনেকের। তবে কাউন্সিলের বক্তব্য নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের তুলনায় কার্ডের সংখ্যা খুবই কম, যার ফলে সকলকে খুশি করাতো সম্ভব না। তবুও চেষ্টা করেছেন যারা সত্যিকার অর্থে সমস্যায় আছেন তাদের মাঝে এ সুবিধা দেওয়ার। নতুন কাউন্সিলর চিত্ত রঞ্জন দাসের সাথে মিলেই এ তালিকা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, কাউন্সিলরের কাছে সরকারি বা সিটি করপোরেশনের যে ত্রাণ সামগ্রী এসেছে তা সকলের সাথে আলোচনা করেই বন্টন করেছেন কাউন্সিলর ফরিদ। এদিকে, নব-কাউন্সিলর চিত্ত রঞ্জন দাস দায়িত্ব না নিলেও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে সরকারি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের, জেলা প্রশাসকের, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর ত্রাণ তিনি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন নিয়মিত। ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন তিনি। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় অসহায় নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজ খবর রেখে ত্রাণ বিতরন অব্যাহত রেখেছেন, অনেককে আর্থিকভাবেও সহায়তা করছেন তিনি। সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম রাসেল বিভিন্নমাধ্যমে অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তাসহ দু দফায় সবজি বিতরণ করেন। এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিক।

৫নং নিয়ে অভিযোগঃ-

রাজারবাগে কেউ কেউ তিন/চারবার ত্রাণ সহায়তা পেলেও অনেকে ১বারও পায়নি। মুখ চিনে চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে। মধ্যবিত্তদের অনেকেই অসহায়ত্বভাবে দিন কাটালেও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। নতুন-পুরনো কাউন্সিলর দুভাগে বিভক্ত হওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। যার দায় পরছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেয়া সরকারের উপর। ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি তানিয়া হোসেন এই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের পাশে না থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অনুসারীরা পরেছে চরম বিপাকে। দলীয় বড় পদবী বহন করে বিদেশে থাকলেও সাধারণ মানুষতো দূরের কথা দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো সহায়তা পাঠাচ্ছেন না তিনি। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Sharing is caring!