সুজন হাওলাদারঃ করোনা পরিস্থিতিতে মানুষকে অসহায়ত্ব কি বুঝিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। সংকটময় মুহূর্তে মানবিকতার অনন্য মানুষগুলোই অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকে আবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও নিজ দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে নিজেকে বাঁচানোর নামে বাসা থেকেই বের হচ্ছেন না। সমাজের প্রতিস্থরেই ভালো এবং খারাপের মিশ্রণ আছে। তেমনি জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও। একজন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধি সবারই দায়িত্ব এই সময়ে খেটে খাওয়া দিনমজুর অসহায় মানুষকে সাহায্য করা। কিন্তু এই সময়ে কেউ বিদায়ের সুরে নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন, কেউ বা ধরাকে সরা জ্ঞান করে লুটেপুটে নিচ্ছেন জনগণের ভাগ্যের ত্রাণ। আবার কেউ নামমাত্র কিছু অসহায় মানুষকে দিয়ে বাকি সব নিজের অনুসারীদের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন। নানা ঘটনাই এই সংকটময় মুহূর্তে অসহায় জাতির সামনে আসছে। সরকার প্রধানের ব্যাপক চেষ্টাকে এ ধরনের কিছু অসাধু ব্যক্তির লোভের কারণে কলঙ্কিত করছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নিবেদিত প্রাণ, যারা দিনরাত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে, রাতের আধারে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। তারাই সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডবাসীন্দারা জনপ্রতিনিধির তেমন কোনো ত্রাণ সহায়তা না পেলেও, স্থানীয় সাংসদ ও মুগদা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বাহারের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ব্যাপক ত্রাণ বিতরন করেছেন। পাশাপাশি যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা’র সহযোগিতায় ২শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দিন। মুগদা থানা ছাত্রলীগের সভাপতিও ত্রাণ বিতরন করেছে। এদিকে ৭নং ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর আবদুল বাসিত খান বাচ্চুর শেষটাও যেন নানা অভিযোগে আবদ্ধ। অসহায় মানুষের চোখের জল মুছে দিতে পারেননি তিনি। সরকারি কিছু সহায়তা নামমাত্র কয়েকজনকে দিলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। তবে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বাহার প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ সহায়তা দেন। এদিকে ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সহায়তায় প্রায় ৬ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরন করেন মোশাররফ হোসেন বাহার। প্রায় চারশত মানুষের মাঝে প্রতিদিন রান্না করা খাবরও বিতরন করা হয় সাবের হোসেন চৌধুরীর পক্ষে। ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বিএম শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ইকবালকে সাধারণ মানুষতো দূরের কথা দলীয় নেতাকর্মীরাই পায়না বলে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, আগামী ১৭ তারিখ ৭নং ওয়ার্ডে নব-নির্বাচিত বিএনপি সমর্থীত কাউন্সিলর শামসুল হুদা কাজল মুগদা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব বুঝে নিবেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে কোনো মানুষই তাকে পাশে পায়নি বলে অভিযোগ করে হতাশা প্রকাশ করেন। যে আগামীতে সে দায়িত্ব নিয়ে আদো কি মানুষের পাশে থাকবেন? ওয়ার্ডে যুবলীগের পক্ষ থেকে কয়েকদফায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

ওয়ার্ডের বিস্তারিত-

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। নব্বই এর দশকের শুরুতেও এই ওয়ার্ডটি ছিল জলাশয়। ১৯৯৪ সালের দিকে জলাশয় ভরাট করে রাস্তাঘাট তৈরি করা হয়। এই ওয়ার্ডের পূর্ব দিকে রয়েছে মান্ডা, পশ্চিমে বিশ্বরোড, উত্তরে মুগদা এবং দক্ষিণে মানিকনগর এলাকা। সম্পূর্ণ ওয়ার্ডটির আয়তন ২.৫০ বর্গকিলোমিটার প্রায়।

অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো:

কাজিরবাগ
পূর্ব মানিকনগর
উত্তর মানিকনগর
পশ্চিম মানিকনগর
আনন্দধারা
মানিকনগর মিয়াজান লেন

Sharing is caring!