আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ বিশেষ ওএমএস তালিকা কেলেংকারীতে ডিলারশীপ হারিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক মো: শাহ আলম।

বুধবার বিকেলে জেলা ওএমএস কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির সদস্য সচিব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবির নাথ চৌধুরী এটি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন। করোনা পরিস্থিতিতে ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের চালু করা বিশেষ ওএমএস সুবিধা ভোগীদের তালিকা শাহ আলম নিজের স্ত্রী-সন্তান এবং আত্বীয় পরিজনের নামে ঠাসা করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসন তদন্তে নেমে এর সত্যতা পায়। এরপরই তার ডিলারশীপ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবার ২ দিনের সময় দিয়ে তার ব্যাখ্যা তলব করেন জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি।

মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণাবড়িয়া পৌরশহরের কাউতলি এলাকার ওএমএস ডিলার ছিলেন। শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউতলী গ্রামের বাসিন্দা এই নেতা প্রভাব খাটিয়ে তার গ্রামের বিশেষ ওএমএস সুবিধের তালিকা করেন। ভিক্ষুক, ভবঘুরে, সাধারণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিকসা চালক, ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে বঞ্চিত করেন তিনি। প্রশাসনের চকিত তদন্তে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউতলী গ্রামের তালিকায় শাহ আলমের স্ত্রী-সন্তানসহ ১৩ স্বজনের নাম পাওয়া যায়। তারা হচ্ছেন স্ত্রী মোছাম্মৎ মমতাজ আলম,মেয়ে আফরোজা, ডিলারের কাতার প্রবাসী শ্যালকের স্ত্রী মোছাম্মৎ জান্নাতুল ইসলাম,আরেক শ্যালকের স্ত্রী আছমা ইসলাম,বোন শামসুন্নাহার,মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাতিজা নাছির, ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবহন শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো: সেলিম,আরেক ভাই মো: আলমগীর, শ্যালক মো: তাজুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম, বোনের দেবর আতাউর মিয়া, লুৎফুর মিয়া ও মাহবুব মিয়া।

এ গ্রামের মোট ২২জনের নাম পাওয়া যায় যারা সামর্থ্যবান। গোটা পৌরসভায় ওই তদন্তে গরীবের ওএমএস তালিকায় অনিয়মে নাম উঠেছে এমন ৯১জনের সন্ধান মিলে।

বুধবারের সভায় তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল করার জন্যে পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়। এরআগে সোমবার বিদ্যমান তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সামর্থ্যবান ভোক্তাদের চিহ্নিত করতে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রনীতব্য ৩ হাজার ৬’শ জন ভোক্তার তালিকা প্রণয়নে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করার জন্যে মেয়রকে চিঠি দেন জেলা প্রশাসক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় প্রথম দফায় প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫’শ জন করে মোট ৬ হাজার জনের নাম তালিকাভূক্ত করা হয় সরকারের এই কর্মসূচির জন্যে। ২১শে এপ্রিল তাদের নামে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশেষ ওএমএস কার্ড সুবিধের বিপরীতে একজন ভোক্তা প্রতিমাসে ১০টাকা কেজিতে ২০ কেজি চাল পাচ্ছেন।

Sharing is caring!