আনলিমিটেড নিউজঃ ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে আজ সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) আটটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্টগুলো – নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার উল হাকিম এর নেতৃত্বে উত্তরায়; আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) এ এস এম শফিউল আজমের নেতৃত্বে পল্লবী এলাকায়; নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে মহাখালীতে; আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৪) সালেহা বিনতে সিরাজের নেতৃত্বে শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও শ্যামলীতে; নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মুরশিদুল ইসলাম কল্যাণপুর এলাকায়; নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বসিলা এলাকায়; আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৬) সাজিয়া আফরিনের নেতৃত্বে উত্তরায়; এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে আশকোনা এলাকায় পরিচালনা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার উল হাকিম উত্তরা ৩ ও ৫ নম্বর সেক্টরে মোট ১০টি বাড়ি, ভবন, প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে ৩টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ডিএনসিসির মশককর্মীগণ সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করে মশার লার্ভা ধ্বংস করে। কয়েকটি বাড়িতে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেলে সেগুলো পরিষ্কারের জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়।

অঞ্চল-২ (মিরপুর-২) এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শফিউল আজম মিরপুরের পল্লবী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ২৫টি ভবন ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেলে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম মহাখালী এলাকায় মোট ১৯টি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ১টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া এডিস মশার বংশবিস্তার সম্পর্কে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়।

শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও শ্যামলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৪) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহা বিনতে সিরাজ। এসময় প্রায় ২৫টি বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মুরশিদুল ইসলাম কল্যাণপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সেখানে বাড়ি, ভবন ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের এডিস মশা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতন করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বসিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে পানি ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। মোবাইল কোর্টের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এগুলো পরিষ্কার করা হয় এবং মশার কীটনাশক ছিটানো হয়। এছাড়া ভবন মালিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়।

অঞ্চল-৬ (হরিরামপুর) এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ২০টি ভবন ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। কয়েকটি বাড়ির আশেপাশে পানি জমে থাকলেও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। পানি অপসারণ করে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া অভিযান চলাকালে রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাসির উদ্দিন মাহমুদ আশকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ২টি বাড়ির মালিককে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া এলাকাবাসীকে এডিস মশার বিস্তার রোধে সচেতন করা হয়।

অভিযান চলাকালে সাংবাদিকবৃন্দ, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসির মোবাইল কোর্ট আগামীকালও অব্যাহত থাকবে।

Sharing is caring!