আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ নানা অভিযোগে বিতর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রহমানের বরখাস্তের দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের র্জজিয়াতে বসবাসকারী প্রায় ত্রিশ হাজার প্রবাসী বাঙ্গালী। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান দেশ-বিদেশে প্রসংশার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ স্থান পেয়েছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের র্জজিয়ার আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রবাসী বাঙালীরা দাবি জানান, আমরা প্রবাসী জীবন যাপন করছি। দেশের সুনাম বৃদ্ধি না করলেও ক্ষুন্ন করতে পারি না। তথ্য রয়েছে, বিদেশের মাটিতে বসে সরকার দলীয় লোগো ব্যবহার করে বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করছে মাহমুদ রহমান। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে দেশের ভেতরের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের প্রবাসের ইউনিট গুলোর নেতাদের বিষয়ে তদন্তমুলোক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রবাসীরা।

কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠনের উপর যাতে না বর্তায়, সেইটাই চান প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ও সমর্থকরা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ-এর এক সিনিয়র নেতা বলেন, “বিতর্কিত মাহমুদ রহমানের জন্য জর্জিয়া আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে। সে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ বাসিন্দা, তার কোন স্টেইট আইডি নেই। রহস্যময় হলেও সত্য মাহমুদ রহমানের অবৈধ লেনদেনের অদৃশ্য শক্তি লাগামহীন! সময় পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিবর্তন হয় না। আর এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জানা যায়, দীর্ঘ ৯টি বছর জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটি নিজের অধিনে রেখে রামরাজত্ব তৈরি করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তিনি।

সূত্র বলছে, গ্রুপিং ও সিনিয়রদের মূল্যায়ন না করার কৌশল হিসেবে নিবেদিত কর্মীদের বাদ দিয়ে জুয়ারী ও মানিলন্ডারিং ব্যবসায়িদের সাথে তার ব্যাপক যোগাযোগ ও তদবির বাণিজ্যে অবৈধ অর্থের মালিক বনে গেছেন।

উল্লেখ্য, তিন তিনজন সভাপতি পরিবর্তন হলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সে পদটিতে থেকে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এখনই সময় হয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অব্যাহতি দিয়ে দলকে পরিচ্ছন্ন করা।” যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সেই মাহমুদ রহমানকে তার বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে বার বার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি।

মাহমুদ রহমানের উপর যে সকল অভিযোগ তুলেছেন জর্জিয়াতে বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তা হলো- সে বাংলাদেশে ৩ জন ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত ও যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দুটি অবৈধ জুয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এছাড়াও সে বাংলাদেশের ক্যাসিনো ব্যবসায়ীর অবৈধ টাকাপয়সা হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচারের প্রধান অভিযুক্ত ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বাড়ি-ঘর ও অবৈধ সম্পদের দেখাশোনা করেন।

বিগত ৯ বছর ধরে সে র্জজিয়া আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে জবরদস্তি ও জোর পূর্বক নিজের দখলে রেখেছেন। আর সেই পদবীর বলে আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন পদ ও সুবিধা বাণিজ্য খুলে বসেছেন। যার দরুণ অর্থ নিয়ে মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দিয়ে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন গঠন করে দলকে বিতর্কিত করেছেন। ত্যাগী ও দুর্দিনের আওয়ামী লীগারদের কোনঠাসা করে রেখেছেন। গড়ে তুলেছেন মাহমুদ বাহিনী নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। প্রতিবাদ করায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডাঃ মানিককে মারধর ও হুমকি দিয়েছেন এই বাহিনী দিয়েই। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোতে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠান ও সভা থাকলে তিনি তার বাহিনী দিয়ে তা পণ্ড করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু বোমা হামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী নাজমুল হাসান মুরাদকে নিয়মিত গোপনীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা করে আসছেন মাহমুদ রহমান। সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তার ভাই জাতীয় পার্টির নেতার পরিচয়ে লেনদেনে সহযোগিতা করছে। এত অভিযোগের পরও তিনি কিভাবে একই দায়িত্বে বহাল আছেন? এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা।

Sharing is caring!