আনলিমিটেড নিউজঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আগামীকাল (১৭ মার্চ) প্রথমবারের মতো বাজারে আসছে ২০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট। এতেও থাকছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। বর্তমানে বাজারে ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট প্রচলিত আছে। এগুলোয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রয়েছে। এছাড়া বাজারে প্রচলিত ১, ২ ও ৫ টাকার কয়েনেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রয়েছে।

একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, জাতির পিতা, দর্শনীয় স্থান, পুরাকীর্তি ও সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয় মুদ্রায়। সে কারণে মুদ্রাকে বলা হয় ‘জাতীয় স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম প্রতীক’। প্রত্যেক দেশের মুদ্রার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বাংলাদেশের মুদ্রায়ও এ বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ব্যাংক নোট, কয়েন, স্মারকমুদ্রা ও স্মারক ফোল্ডারে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি অত্যন্ত যত্নে চিত্রিত করা হয়েছে বিভিন্ন মুদ্রা ও স্মারক নোটে। এছাড়া নোট ও মুদ্রায় মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ব্যবহার করে সেই সব ঐতিহাসিক মুক্তি-সংগ্রামের গৌরবগাথা নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে প্রথম বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত মুদ্রার প্রচলন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাজার থেকে এসব নোট ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার বিভিন্ন মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে এসব মুদ্রা পর্যায়ক্রমে বাজার থেকে তুলে নেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত নোটগুলো আবার বাজারে ছাড়া শুরু করে। এ সময়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় সব নোটেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংযোজন করার।

এরপর থেকে যেসব নোট ছাপা হয়েছে সেগুলোয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমান বাজারে এসব নোট প্রচলিত আছে। বাজারে প্রচলিত প্রায় সব নোটেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি রয়েছে। ২০০৯ সালের আগে ছাপানো যেসব নোট বাজারে আছে, সেগুলোয় বঙ্গবন্ধুর ছবি নেই। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরপর কয়েকটি ব্যাংক নোট ইস্যু করে, যার মধ্যে ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা এবং ১ হাজার টাকার নোট।

এ নোটগুলোয় সামনের অংশের বাম পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখমণ্ডলের প্রতিকৃতি এবং ডান পাশে ওই প্রতিকৃতির জলছাপ এবং মাঝখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির জলছাপ যুক্ত করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৭ মার্চ ১০ টাকা, ২০ টাকা এবং ৫০ টাকার ব্যাংক নোটেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং জলছাপ ও মাঝখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির জলছাপ যুক্ত করা হয়।

পরিচিত এবং ব্যবহৃত এসব নোট ও মুদ্রার বাইরেও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন সময় কিছু স্মারক নোট ও মুদ্রা ইস্যু করা হয়। এখন পর্যন্ত ১৭টি স্মারকমুদ্রা ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া ১৭ মার্চ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমান স্বর্ণ ও রৌপ্য স্মারকমুদ্রা এবং ১০০ ও ২০০ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট বাজারে আসছে। এ নোট ও মুদ্রাগুলোর প্রতিটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখমণ্ডলের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হবে।

স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৯৬ সালে বের করা হয় স্মারক কয়েন। যার অভিহিত মূল্য ১০ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ছিল ৩ হাজার ৩০০ টাকা। এর সম্মুখভাগে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, অপর পিঠে আছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি। ২০১১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৪০ টাকার স্মারক নোট বের করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নোটের সামনের অংশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি এবং অপর অংশে ছয়জন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি যুক্ত করা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান ও ঘটনাগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে স্মারকমুদ্রা, নোট ও ফোল্ডার দেশীয় ও বিদেশীয়ভাবে মুদ্রণ করা হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসসহ ব্যাংকের অন্যান্য শাখা অফিসের ক্যাশ বিভাগের নির্দিষ্ট কাউন্টার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে সর্বসাধারণের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করা হয়। এসব স্মারকমুদ্রা ও নোট কোনোভাবে বিনিময়যোগ্য নয়।

Sharing is caring!