ঢাকা, ০৯ পৌষ,২৪ ডিসেম্বর: তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বিষয়ক ধারণার প্রসারে একটি যুগোপযোগী প্রামাণ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও তা বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচারের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বিষয়ক এ অনুষ্ঠানে শিল্প, কল-কারখানা, কৃষি খামারসহ সকল সেক্টরে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল এবং এর সুবিধা তুলে ধরতে হবে। এটি যাতে দূর শিক্ষণের ভূমিকা পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অনুষ্ঠানটি নির্মাণের তাগিদ দেন তিনি।

 

 

 

শিল্পমন্ত্রী আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎপাদনশীলতা পরিষদ (এনপিসি)-এর চতুর্দশ সভায় সভাপতিত্বকালে এনপিও’র কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন। দেশের শিল্প ও সেবাসহ বিভিন্নখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে কর্ম-কৌশল নির্ধারণের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

 

 

 

এতে শিল্পসচিব মোঃ আবদুল হালিম, শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র, কৃষি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য যোগাযোগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেপজা, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, নাসিব, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি, বাংলাদেশ জুট মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন, এনপিও, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিসহ কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

সভায় শিক্ষা কারিক্যুলামে উৎপাদনশীলতা বিষয়ক কনটেন্ট অন্তর্ভুক্তি, নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের সাথে এনপিও’র সংঝোতা স্মারক সই, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি মাস্টার প্লান বাস্তবায়ন, এনপিও’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এর পাশাপাশি খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোপূর্বে গঠিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে কমিটি পুনর্গঠনের তাগিদ দেয়া হয়।

 

 

 

সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টরে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুব শিগ্গির বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং লেদার গুডস্ অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এর সাথে এনপিও’র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে দেশের তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও চামড়া শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।

 

 

 

সভায় আরও জানানো হয়, শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতার স্তর নির্ধারণের লক্ষ্যে এনপিও একটি সমীক্ষা পরিচালনা করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শ্রম জরিপের ফলাফল প্রকাশের পরপরই এটি পরিচালনা করা হবে। এনপিও এ সমীক্ষার ফলাফল দ্রুততার সাথে প্রকাশ করবে বলে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়।

 

 

 

সভায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে সকল খাতে কাঙ্খিত হারে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়াস গতিশীল করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় গৃহিত উদ্যোগের ফলে গত এক বছরে সকল সেক্টরেই গতিশলীতা এসেছে। আগামী বছর এটি আরও জোরদার হবে। তিনি জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় চালুকৃত বঙ্গবন্ধু শিল্প পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান।

Sharing is caring!