ঢাকা, রোববার ২২ ডিসেম্বরঃ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থেকে বিএনপি শিখবে এবং যে দুর্বৃত্তচক্রে বিএনপি’র রাজনীতি আবদ্ধ, সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসবে।

 

 

 

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন বর্ষীয়ান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

 

 

 

‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে গণতন্ত্রের চর্চা নেই এবং সেখানে সঙ্কট উত্তরণের নির্দেশনাও নেই- বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের এমন মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান একথা বলেন।

 

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত ফখরুল সাহেব আওয়ামী লীগ কাউন্সিলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি তাকে বলবো, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় ক্ষেত্রেও একটি মাইলফলক। ১৯৬৬ সালের আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, যেখানে বঙ্গবন্ধু সভাপতি হয়েছিলেন, সেখানে সূচনা সঙ্গীত ছিল ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।’

 

 

 

রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ড. হাছান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর রাজনীতিতে বণিকায়ন ও দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছিল জিয়াউর রহমান, সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছিল এরশাদ সাহেব এবং বেগম জিয়া তা ষোলকলায় পূর্ণ করেছে। সেই ধারা থেকে রাজনীতিকে উদ্ধার করে, রাজনীতি যে একটি ব্রত, তা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

 

 

 

আওয়ামী লীগের সম্মেলন থেকে বরং বিএনপি’র অনেক শেখার আছে, উল্লেখ করে দলের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগে নিয়মিত সম্মেলন হয়, বিএনপিতে কি সম্মেলন হয়! এক কলমের খোঁচায় সেখানে সদস্য হয়, বাদও যায়। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কতজন উপদেষ্টা আছে, মীর্জা ফখরুল সাহেবও তা বলতে পারবেন না।’

 

 

‘আমাদের প্রত্যেক সম্মেলনের একটি ঘোষণাপত্র থাকে, এ সম্মেলনেরও আছে। সেখানে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, জাতিকে আমরা কোন লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে চাই, সব রয়েছে। বিএনপিতে তো এই চর্চা নেই, এজন্য তারা জানেন না। ফখরুল সাহেব চাইলে আমি ঘোষণাপত্রের একটি কপি পাঠিয়ে দিতে পারি।’

 

 

 

কাউন্সিলে নেতৃত্বে তেমন কোনা পরিবর্তন নেই- এমন মন্তব্যের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিল মানেই নবীন-প্রবীণের মিলিত রক্তস্রোত সঞ্চালন। এবারও তা হয়েছে। আর পরিবর্তনই যে হতে হবে, এমন তো কথা নেই। যারা ভালো কাজ করছেন, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সভাপতি তাকে সেকাজে রাখতেই পারেন।’

 

 

এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে বিএসএমএমইউতে তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে যান।

 

 

 

তিনি বিএসএমএমইউ কেবিন ব্লকের ৫১১ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন এটিএম শামসুজ্জামানের শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

 

 

 

এ সময় প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী মো: রফিকুল আলম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অভিনয়শিল্পী তারিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা: পবিত্র দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটিএম শামসুজ্জামান তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য গত ৮ ডিসেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেও তার চিকিৎসার জন্য সবকিছু করেছেন, এখনও করবেন। তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন তাকে দেখতে।

Sharing is caring!