আনলিমিটেড নিউজঃঃ দেশের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জান্নাতুল ফেরদৈস ঐশির রয়েছে বড় একটি ফ্যান গ্রুপ। যেখানে নিয়মিত হাজার হাজার ফলোয়াররা ঐশির সকল আপডেট দিয়ে যুক্ত থাকে। কলেজ, ইউনিভার্সিটির ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও বিশাল একটা ভক্তবাহিনী ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে চীনে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা মঞ্চে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করা জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশির।

 

 

 

 

ছবিঃ আনিকা মেহজাবিন তানিশা

 

 

 

 

৩০ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর যে অফিসিয়াল ফ্যান গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপের একজন জনপ্রিয় এডমিন আনিকা মেহজাবিন তানিশার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ছেলেরা সাধারণত অভিনেত্রী বা মেয়ে মডেলের ফ্যান হবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু আপনি কেন ঐশির ভক্ত হলেন, এমন কথায় আমিকা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে প্রতিবেদকে। তার মতে যদি সেলিব্রিটি বা জনপ্রিয়তার বিচার করে ভক্ত হতাম, তাহলে পরিমনিরই হওয়া উচিত। তবে যাকে ফলো করা যায়, তারই ফলোয়ার বা ফ্যান হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন এই সুন্দরী।

 

 

ঐশি আমাদের অনেকের আদর্শ এবং সাহসের জায়গা উল্যেখ করে এই ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রী বলেন, মফস্বল শহর থেকে একটা মেয়ে নিজেকে এমনভাবে তৈরি করেছে যে জাতীয় দরবারতো বটেই বিশ্ব দরবারেও দুর্দান্ত সফলতা অর্জন করেছে। যা আমদের প্রেরণা দেয়।

 

 

 

রাজধানীর নামী প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, সিকিউর যায়গায় বসবাস করেও নিজের গন্ডি পেরুতে ভয় পাই। কিন্তু সারল ব্যক্তিত্বের বুদ্ধিমতি মেয়ে ঐশি সেটা দেখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে বিনয়ী এবং ইতিবাচক গুন দিয়ে বিশ্বকে জয় করা যায়।

 

 

 

এই গ্রুপের আরেক এডমিন জিসান আহমেদ। থাকেন সাগর কন্যাখ্যাত পটুয়াখালী জেলায়। পটুয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। ফ্রি ওয়াইফাই বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা না থাকলেও চড়া মূল্যে এমবি কিনে সোস্যাল মিডিয়ায় ঐশীর নানা প্রমোশনাল কর্মকান্ড পরিচালনা করে। গ্রুপে ঐশির নিয়মিত আপডেট দিতে ফোন করে দারাস্থও হয় তার ম্যানেজার হান্নানের নাম্বারে। ম্যানেজারের অবজ্ঞা, ভালো করে কথা না বলাসহ ইত্যাদি আচরণে কষ্ট পেলেও ভালোবেসে সাপোর্ট করে যায় জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশিকে।

 

 

২ বছর আগে খোলা (https://www.facebook.com/groups/371870646500023/) জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশির অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাব নামের গ্রুপটির শুরু থেকেই যুক্ত থাকা আনিকা- জিসানসহ অন্যান্য এডমিনদের একটাই চাওয়া ঐশি যাতে হারিয়ে না যায়।

 

 

 

তাদের মতে, বাংলাদেশী চলচ্চিত্র ঐশিদের অভাবে ডুবতে বসেছে। একটা গ্ররুত্বপূর্ন জেনারেশন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বড় পর্দা থেকে। তাই ঐশিকে ভালোবেসে বিভিন্ন তথ্য/ আপডেট গ্রুপে দিয়ে সক্রিয় রাখি। যাতে ঐশী তার ভক্তদের সাপোর্ট পেয়ে আরও অনুপ্রাণিত হয়ে মিডিয়ার বিভিন্ন কাজ গুলো সুন্দর ভাবে করতে পারে।

 

 

হুট করে এসেই মন জয় করে নিতে সক্ষম সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মিস বাংলাদেশ ২০১৮-এর মুকুটধারী জান্নাতুল ফেরদৈস ঐশি এসব বিষয়ে বলেন, সহজ জীবনই আমার পছন্দ। নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা কিরিনি। আমি যেমন ছিলাম, তেমনই আছি। আমি অনেক ভালো আছি। আমাকে যারা ফলো করে, তাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ । এখন পর্যন্ত যার কোন ছবি মুক্তি পায়নি। নাটকেও দেখা যায়নি, তারপও এতজনের ভালোবাসাকে অনেক বড় পাওয়া বলে মনে করেন বিশ্ব জয় করা এই সুন্দরী।

 

 

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে ঐশি বলেন,একটা মানুষের জীবনে এর চেয়ে বেশী আর কী পাওয়া থাকতে পারে।

 

 

 

এছাড়াও গ্রুপ্রের ফ্যানরা তার প্রাণ উল্যেখ করে বলেন, বারবার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ায় গ্রুপে যুক্ত থাকতে পারি না। তারপরও অন্যান্য আইডি দিয়ে পোস্টগুল নিয়মিত ফলোআপ করি। মূলত ওরাই আমার অনুপ্রেরণা যোগায়।

 

 

 

ঐশি আক্ষেপ করে বলেন, আমার ঐশি (Oishee) নামের একটি মাত্র ফ্যান পেজ রয়েছে (https://www.facebook.com/OisheeMWBD18/)। যার মাধ্যমেও ফ্যানদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাই। যদিও ফেইক পেজগুলোতে আমার ফলোয়ার বেশী। একারনে একদিকে আমার নতুন ফলোয়াররা যেমন আসল পেইজটি খুজে পেতে বিব্রত হয়। অন্যদিকে আমি থাকি অজানা আতঙ্কে! কারন ঐ ফেইক পেজগুল দিয়ে কখন কোন মিথ্যাচার বা গুজব ছড়ানো হয়, আই ডোন্ট নো…! সেজন্য সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটে সাহায্য চাওয়া হলেও, বন্ধ করা যায়নি ফেক পেজ এবং হ্যাক হওয়া আইডিগুল।

 

 

 

তারপরও আশা করব আমার ফ্যানরা সব অবস্থায়ই আমাকে সাপোর্ট করে যাবে। তাতে আমার ফেসবুক আইডি থাকা বা না থাকা জরুরি বলে মনে করিনা।

 

 

 

এসব বিষয়ে কথা হয় সরাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের দায়িত্বে থাকা যে অফিসার উল্ল্যেখযোগ্য হারে এসব কেস সমাধান করেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের উপ-সহকারী কমিশনার নাজমুল ইসলামের সাথে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একমাত্র বাংলাদেশেই এই ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার বেশী ঘটনা ঘটে। আমাদের দেশের নষ্ট ছেলেমেয়েরা এইসব একাউন্ট হ্যাক করে বুনো সুখ নেয়। রংপুর, নাসিরনগর এবং সবশেষে ভোলারটাও হ্যাকিং কান্ডে বড় ঘটনার উদাহরণ।

 

 

 

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশির অভিযোগ প্রশংঙ্গে এই অভিজ্ঞ অফিসার বলেন, ঐশি আমাদের জানানোর সাথে সাথেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে একটা তৎপরতা চালানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার যোগাযোগের অভাবেই কাজগুল সম্পন্ন হয়নি। কারন ফেসবুক কোর্টের আদেশ ছাড়া কোন তথ্য আমাদের দেয় না।

 

 

 

তিনি আরো জানান, জরুরি ভিত্তিতে ফেসবুক তথ্য দেয় শুধু জঙ্গিবাদ, লাইফ থ্রেট , হেডস্পিস ও পর্নগ্রাফির অভিযোগে। এছাড়া অন্য কোন বিষয়ে কোর্টের আদেশ ছাড়া তথ্য দিতে বাধ্য নয় ফেসবুক।

 

 

 

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে চার কোটি ফেসবুক ইউজার। সময়ের সাথে বুঝে না বুঝে এর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এগুলোর সিকিউরিটির ব্যাপারে অনেকেই জানে না বা সচেতনতার অভাবে এ ঘটনাগুলোর পূনবৃত্তি হচ্ছে।

 

 

 

তাই তারমতে সবার উচিত ফেসবুকের পাসওয়ার্ড এর পাশাপাশি ইউজাররা যে গুগোল অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করে, সেটার পাসওয়ার্ডটা স্ট্রংলি দেয়া উচিত। অনেকেই আবার গুগোল বা মেইলের পাসওয়ার্ড দেয় নিজের মোবাইল নাম্বা