আনলিমিটেড নিউজঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সালিশি বৈঠকে জামাইয়ের সঙ্গে শাশুড়িকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার ঘটনায় আইনলঙ্ঘন, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে উপজেলার হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের তালুকদারসহ ১১ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন শাশুড়ি মাজেদা বেগম। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

 

রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় গোপালপুর আমলি আদালতের বিচারক শামছুল হকের আদালতে এ মামলা করা হয়।

 

 

পরে আমলি আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ আগস্ট টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িয়াটা গ্রামের নুরু মিয়ার মেয়ে নূরন্নাহারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলীর বিয়ে হয়।

 

 

 

বিয়ের দেড় মাসের মাথায় শাশুড়ি মাজেদা বেগম তার মেয়ে এবং জামাই মোনছের আলীকে দাওয়াত করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। একই দিন মোনছের আলী বাড়ি ফিরে যেতে বললে তার ঘর করবে না বলে জানান স্ত্রী নুরুন্নাহার।

 

 

 

এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ গ্রামবাসী নিয়ে সালিশি বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অস্বীকার করে মেয়ে। এ সময় শাশুড়ি রাগ এবং ক্ষোভে বলে ওঠে তুই সংসার না করলে আমি সংসার করব।

 

 

 

আর এতেই মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে শাশুড়ি ও মেয়ের জামাইকে বেদম মারধোর করেন মাতব্বররা। এরপর শ্বশুরকে দিয়ে শাশুড়িকে এবং মেয়েকে দিয়ে মেয়ের জামাইকে তালাক দিতে বাধ্য করে তারা। আবার একই সঙ্গে স্থানীয় কাজী গোলাম মাওলা জিন্নাকে ডেকে এনে শাশুড়ির সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের বিয়ে রেজিস্ট্রি করান।

 

 

 

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের নামে যাতে মামলা না করে সে জন্য মোনছের আলী প্রতিনিয়তই তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মাজেদা বেগম। তিনিও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

 

মাজেদার আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আইনলঙ্ঘন, ধর্মঅবমাননা, শারীরিক নির্যাতন ও মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের তালুকদার সোমবার সকালে বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসাতে এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছে। আমি সেদিন শেষ সময়ে সালিশে উপস্থিত হয়েছিলাম। জামাই-শাশুড়ির বিয়ের বিষয়ে আমার হাত নেই। সূত্র, সময় নিউজ