আনলিমিটেড নিউজঃঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের সামনে পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, মারামারি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর একটি হচ্ছে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে, আরেকটি নাশকতার। একইসঙ্গে ঘটনার সময় আটক ১২ জনের মধ্যে ১০ জনকে এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

 

 

শনিবার (০৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দুটি করে। এতে নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের অনেককে আসামি করা হয়েছে।

 

 

রাত সাড়ে ১১টার দিকে তেজগাঁও ডিভিশনের ডিসি আনিসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, মারামারি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় অনেকেই আছেন।

 

 

 

তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমরা ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করেছিলাম। তাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে দুই মামালায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

 

 

এর আগে শনিবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে ৩১ কোটি টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তারা পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। একপর্যায়ে বিহারিরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

 

 

 

এ বিষয়ে তেজগাঁও ডিভিশনের ডিসি আনিসুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের ৩১ কোটি টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকায় ডিপিডিসির লোকজন জেনেভা ক্যাম্পে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালায় বিহারিরা। একপর্যায়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা করে তারা। এমনকি বিহারিরা থানার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের বেশ কয়েক সদস্যসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

 

 

 

 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, ঢামেক হাসপাতালে জেনেভা ক্যাম্পের সংঘর্ষের ঘটনায় রকি (২২) নামে এক যুবক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। তিনি জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তার চোখে শটগানের গুলি লেগেছে।

 

 

 

উর্দুভাষী যুব-ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ জুয়েল বলেন, বকেয়া বিলের কারণে ডিপিডিসি গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে লোডশেডিংয়ের নাম করে জেনেভা ক্যাম্পে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখত। জেনেভা ক্যাম্পের প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার বাসিন্দা এ কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতো। বারবার ডিপিডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা জানান, আমাদের কিছু করার নেই। বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে, না হলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

 

 

 

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করে যাচ্ছিলেন জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দারা। এর প্রতিবাদে দুপুরের দিকে মোহাম্মদপুর হুমায়ুন রোড ও শাহজাহান রোডে জেনেভা ক্যাম্পাসে বাসিন্দারা অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান। তিনি বিহারিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি চলে যাওয়ার পরপরই তাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বিহারি ক্যাম্পের অন্তত ১০০ জন আহত হন।

 

 

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎবিল সরকার পরিশোধ করে থাকে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। মন্ত্রণালয় কেন পরিশোধ করছে না, এই ব্যাপারে আমাদের সংগঠন এফপিডিআরপি ও এমআরটিএম থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি সংগঠন ইউএসপিওয়াইআরএম থেকেও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

সংঘর্ষের সময় কারা পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।