আনলিমিটেড নিউজঃঃ বহুল আলোচিত ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাকে দেশে ফেরত আনতে তৎপরতা শুরু করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ও পুলিশ সদর দফতর।

 

 

সাম্প্রতিক চলমান অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে যখন জিসান সম্পর্কে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে, ঠিক তখন এ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার সংবাদ জানা গেল।

 

 

 

জিসানের গ্রেপ্তারের খবরটি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের বাংলাদেশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ইন্টারপোল আমাদের জানিয়েছে। তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে।

 

 

তবে দুবাইয়ে সংঘটিত কোনো অপরাধের কারণে না কি ইন্টারপোলের দাগি আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

 

 

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, জিসান ইন্টারপোলের দাগি আসামি। বাংলাদেশে পুরস্কার ঘোষীত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাকে গ্রেপ্তারে বছরখানেক আগে ইন্টাপোলের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। এ নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালিও হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতেই দুবাই পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার করে থাকতে পারে।

 

 

 

জিসান দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সেখানে বসেই দেশের অপরাধ জগতের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রন করছেন, এমন তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।

 

 

 

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জিসানের কাছে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে। ওই পাসপোর্টে তার নাম আলী আকবর চৌধুরী।

 

 

 

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই। তাই চাইলেও তাকে দেশে ফেরাতে পারবে না ঢাকা। পাসপোর্টসূত্রে ভারতের নাগরিক জিসানকে ভারতে ফেরত পাঠানো হলে বাংলাদেশ তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

 

 

 

জানা গেছে, জিসানের বিষয়ে ইন্টারপোলের সঙ্গে চিঠি চালাচালি শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল উইপনস্ অ্যান্ড ট্যাকটিস (সোয়াত)। ইন্টারপোলের সবুজ সংকেত পেলে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল দুবাই যেতেও প্রস্তুত।

 

 

 

২০০১ সালের নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে। ওই তালিকায় জিসানের নাম ছিল না। মালিবাগ, মগবাজার, খিলগাঁও এলাকার আলোচিত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। ২০০২ সালে মালিবাগে হোটেল সানরাইজ হোটেলে ডিবির দুই ইন্সপেক্টরকে সরাসরি হত্যা করে জিসান আলোচনায় আসে। এরপর জিসান আত্মগোপন করে। ২০০৫ সালে জিসান ভারতে চলে যায়। সেখানে ২০০৯ সালে একবার কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পরে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় বসে ঢাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন। বছর দুয়েক আগে জিসান ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে দুবাই চলে যায়। ঢাকার অনেক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার নিয়মিত বৈঠক হতো। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে যুবলীগ নেতা সম্রাট, খালেদ ও জিসানের বৈঠক হয়। সেখানে ক্যাসিনো থেকে জিসান ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।

 

 

 

সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ও সেলিম প্রধানের চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জিসান দুবাই থেকে যোগাযোগ রাখত বলে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলাবাহীনি।