আনলিমিটেড নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের সফল এক রাষ্ট্রনায়কের নাম শেখ হাসি। যিনি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে টোকাইদের ভালবাসায় টোকাইমন্ত্রী খ্যাত র‌্যাক এডুকেশন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান অসহায় প্রতিবন্ধী ও মেহেনতি মানুষের পক্ষ থেকে হৃদয়ে ব্যাকুলতাময় ভালবাসা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। টোকাইমন্ত্রী মিজান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ কারো কাছে আপা, আবার কারো কাছে মা। তিনি আজ বাংলাদেশকে বিশ্বময় আলোকিত করেছে। তার আলোয় আলোকিত কৃষক, শ্রমিক সহ মেহেনতি সকল মানুষ। তিনি প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছে। যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জন্ম। দলের সভাপতির জন্মদিনে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

 

 

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। ভাইবোনদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন।

 

 

 

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা।

 

 

শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির কান্ডারী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন তার মেধা, সাহস ও সততার কারণে, বর্তমান বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক বলা হয় তাকে। বাঙালির জাতি সত্ত্বা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিরা নস্যাৎ করতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের সঙ্গে মহা উৎসাহে যোগ দিয়েছিল ক্ষমতালোভী ও সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সমাজ। বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতি তখন ছিল অসহায়, নির্যাতিত, অপমানিত, নিপীড়িত। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাঙালির চিরশত্রু পাকিস্তানের স্বৈর সামরিক শাসকরা দেশকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গর্তের ভেতর ফেলে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে এক জঙ্গী ও সাম্প্রদায়িক শাসন কায়েমের ভিত রচনা করে। কিন্তু সেইসব লোভী ও বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পবিত্র রক্ত মেখে নিজেরাই হয়েছিল ঘাতক ও খুনী, তাই সেই ভিত শক্তিশালী হতে পারেনি। তাদের পাপী হৃদয়ের লালসা চরিতার্থ করতে পারেনি। খুনী মোশতাক-জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ বাঙালির অস্তিত্বকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার প্রয়াস চালিয়েছিল। এসব তো আমরা চোখের সামনে দেখেছি। তাদের উচ্ছিষ্টভোগী লোভীরা কেউ কেউ তলে তলে তাদেরই সমর্থন করে গিয়েছে। বাঙালি বাংলাদেশ বিশ্বে তখন মাথা নীচু করেই ছিল। ক্যূ-পাল্টা ক্যূ, গুম ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, গণতন্ত্র এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সুশাসনকে বুটের তলায় নিস্পেষিত করে দুর্নীতি ও দু:শাসনের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। একদিকে মুষ্টিমেয় উচ্ছিষ্টভোগীরা ধনী থেকে ধনী হচ্ছিল, আর একদিকে গরীব আরও গরীব হয়ে পড়ছিল। দারিদ্র -দুর্ভিক্ষ অভাব অনটনে মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ছিল। মুক্ত বাতাস নেবার মত পরিবেশ ছিল না দেশে।

 

 

 

১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল এমনই অন্ধকাচ্ছান্ন। সংশয় প্রতিহিংসা-দমনপীড়ন-শোষণ নির্যাতনে মানুষ ছিল অসহায়। কান্ডারীহীন নৌকা যেন দিশাহারা ছিল। আর এসময়ই আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হতে দেখি, যেখানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রবাসে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দলীয় সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়।

 

 

 

তারপর ১৭ই মে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর প্রতি লক্ষ লক্ষ মানুষের সেই সম্বর্ধনা আমরা নিশ্চয় বিস্মৃত হতে পারি না। পিতার শোকের সান্তনা তিনি সেদিন এই মানুষের মাঝে দেখেছিলেন এবং মনে মনে স্থির করেছিলেন পিতার অসমাপ্ত কাজ তাকেই সমাপ্ত করতে হবে এবং জীবন দিয়ে হলেও করতে হবে। এ কথা তিনি বারবার উচ্চারণও করেছেন। তারপর ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এক দীর্ঘ-স্বৈরাচার-সামরিক-সরকার-বিরোধী আন্দোলন করেছেন শেখ হাসিনা। নিজের দল সংগঠিত করতে হয়েছে, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে আদর্শ স্থাপন করতে হয়েছে এবং দেশ ও জনদরদী নেতা হিসেবে তিনি আজ প্রতিষ্টিত। পিতার মতই অসীম সাহসী, দৃঢ়তায় অবিচল, দেশপ্রেম ও মানবিক গুনাবলীসম্পন্ন একজন আদর্শবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা মানুষের কাছে আজ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেতা । দেশের যে কোনও সংকটে তার নেতৃত্ব দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছে তিনিই একমাত্র গ্রহণযোগ্য। সেখানে দ্বিতীয় কোনও বিকল্প নেই।

 

 

 

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করে শেখ হাসিনা প্রমান করেছেন শাসক হিসেবে তিনি যেমন দেশনন্দিত, তেমনি গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। তাঁর শাসনামলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ এবং অন্যান্য সহযোগিতা মানুষকে অসহায়ত্ব থেকে রক্ষা করেছিল। দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলে তিনি দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্রের কষাঘাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে ভাগ্যোন্নয়নের পথে দাঁড় করিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসুচি এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সর্বক্ষেত্রে পিতার পাশাপাশি মায়ের নামের স্বীকৃতিও ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদের ঋৃণ প্রদান, কৃষি সামগ্রীর মূল্যহ্রাস এবং সহজ প্রাপ্যতাও ছিল বিরাট অবদান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম সরকার মানুষের কাছে আস্থা এনে দিয়েছিল। পরবর্তীতে কিভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে আমরা সবাই দেখেছি। তারা পাঁচ বছর দেশ শাসনের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টিতে ইতিহাস গড়ে তোলে এবং তারপরও ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধীদলকে দমন করার হিংসাত্বক পন্থা অবলম্বন করে নির্বাচন কমিশনকে এক হাস্যকর দলীয়করনের দৃষ্টান্ত করে তোলে। এরপরের ইতিহাস আমরা সবাই জানি যে কীভাবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবাধায়ক সরকার গঠিত হয় এবং তারা দুই বছর দেশ শাসন করে। তারা শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে রাখে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের কারারুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রেপ্তার-রিমান্ড ও নির্যাতন চালিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও কারারুদ্ধ হন। নিঃসঙ্গ কারাগারে তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি কারাগারে স্লোপয়জনিং করে তাকে হত্যা করার অপচেষ্টাও চালানো হয়। কারাবন্দি অবস্থায় কোর্টে তার মামলা চলে, সেখানেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেন। তার বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলার অভিযোগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেবার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে। সেসময়ও আমরা দেখেছি তার পেছনে শুধুমাত্র দলীয় নেতা-কর্মী নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাহক সমগ্র দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ছিলো। এর প্রমাণ আমরা দেখেছি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। মানুষ তাকে বিপুলভাবে ভোট দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে দেশ শাসনের অধিকার দেয়।

 

 

 

২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা জাতিকে স্বপ্নদর্শী করে তোলার পাশাপাশি একুশ শতকের প্রযুক্তি উপযোগী হবার আহ্বান জানান। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সকল কর্মসুচি তৃনমূল থেকে শুরু করেন। দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং তার সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করে তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে উদার করে দিয়েছন। এর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আজ মডেল হিসেবে বিশ্বনেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ করে তোলেন। এছাড়া তার শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়নও বিশ্বে এক বিশেষ উদাহরণ স্থাপন করেছে। শেখ হাসিনার প্রতি তাকিয়ে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও দরিদ্র অনুন্নত দেশের মানুষও। বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, দেশে দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকার সমস্যা জটিল হচ্ছে তখন তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন। মানুষের জীবিকা নির্বাহে ন্যূননতম উপায় সৃষ্টি করেছেন। শেখ হাসিনার কৃতিত্ব এখানেই। তার সাফল্যের চাবিকাঠি হচ্ছে তিনি গভীর আন্তরিক বলেই যেকোনও ভালো উদ্যোগকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতে জানেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের উন্নয়নে তাঁর কোন বিকল্প আজও আমরা দেখতে পাই না। জাতীয় অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। দারিদ্রের হার অনেক কমে বর্তমানে ৩২.০৫ ভাগে নেমে এসেছে। অনেক রকম সমস্যা আছে দেশে, সমস্যার মাত্রাও নানাবিধ তারপরও দেশের মানুষ ন্যূনতম শান্তি ও স্বস্তিতে জীবনযাপন করছে। এর প্রধান কারণ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি। আমাদের স্বীকার করতেই হবে শেখ হাসিনার শাসনামলে তার দৃষ্টি তৃণমূল থেকেই ওপরে উঠেছে।

 

 

 

তিনি তরুনদের কাছে প্রযুক্তি ব্যবহারের অবাধ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কর্মসংস্থান ছাড়াও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের বিরাট সম্ভাবনা থাকবে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখ হাসিনার কতটুকু অর্জিত হয়েছে জানি না, তবে তাঁর মত জনদরদী ও মমতাময়ী নেত্রী ভবিষ্যতে আসবে কি না সেটা ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মই মূল্যায়ণ করবে।

 

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে শেখ হাসিনা তার সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শীতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন–এটাই হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব।

 

 

দেশবাসীর কাছে আকুল নিবেদন, দল মত, ভেদাভেদ ভুলে আমাদের সফল রাষ্ট্র নায়ক, যিনি বাংলাদেশের সম্মান বহু গুণে বৃদ্ধি করেছে বিশ্বায়নে। যিনি মৃত্যুকে সঙি করে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই বাংলার। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী একজন অসহায় মানুষ। তাই অসহায়, এতিম, ছিন্নমূল মানুষদের জন্য সব সময় আমার মন কাঁদে। আসুন যার যতোটুকু সম্ভব ততোটুকু দিয়েই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াই, তাদের মুখে একটু হাঁসি ফুঁটাই।