নূরে আলম জীবনঃ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ৭৫ এর কালো অধ্যায়ের পর, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল দলের উপর চরম আঘাত। দলীয় প্রধান ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা সহ সিনিয়র নেতাদের হত্যার পরিকল্পনায় চালানো হয় বর্বর গ্রেনেড হামলা। মানববেস্টনি আর নেতাকর্মীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। সেই গ্রেনেডের স্প্যান আজো বহু নেতাকর্মী দেহে বয়ে বেঁচে আছেন।

 

সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ঘুরে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। ২০০৭ সালে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাহসিকতায় তৎকালীন জরুরী অবস্থার সরকার শেখ হাসিনা গ্রেফতার করলে যুবলীগ নেতা এইচ এম রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে প্রতিরোধ করে যুবলীগ প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর সৃতিতে যুবলীগ নেতার সেই প্রতিরোধের চিত্র রয়েছে। আজকের যুবলীগ তৃণমূলের যুবলীগে পরিনত হয়েছে শুধু মাত্র ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর সাহসিক ও ভালবাসাময় নেতৃত্ব। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিগত সরকারের সময় যেভাবে অপব্যবহার করতো ক্ষমতার সেই ধারা থেকে বের হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে যুবলীগ প্রমান করেছে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট আসলেই সম্রাট। সামরাজ্য নেই, আছে দৃঢ় প্রজ্ঞা ও আদর্শের নৈতিকতা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ বিনির্মানে যুবলীগ দক্ষিণ বারবার প্রসংশা কুড়িয়েছে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির শ্রেষ্ট ইউনিট হিসেবে যুবলীগ দক্ষিণ সুনাম অর্জন করেছে কয়েকবার।

 

অতিত যুবলীগের কালিমা থেকে বের করে শিক্ষার বিস্তার ও যুবসমাজকে বঙ্গবন্ধুকে জানার পথ সৃষ্টি করেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

 

 

চমক দিয়েই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান নিয়েছিলেন সম্রাট। শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে বারবার প্রমান করেছে যোগ্যতা। আদর্শ এবং দৃঢ়তা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে তৃণমূল যুবলীগে বহু গুনে করেছে বিস্তার।

 

 

মানবতার ফেরিওয়ালা সম্রাটকে থামাতে একবার নয়, বহুবার হয়েছে ষড়যন্ত্র। বিএনপির দুর্গকে সম্রাট কৌশল এবং রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে পরাজিত করেছে। রাজপথে সম্রাট মানেই বিএনপি জামায়াতের আতঙ্ক। আর সেই সম্রাটকে নিয়েই হয় ষড়যন্ত্র। তবুও সম্রাট হাজার হাজার কর্মীর ভালবাসায় সেরা। সম্রাটকে নিয়ে যেকোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত নেতাকর্মীরা।

 

 

সম্প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভের কথা শুনে সংগঠনের অভিযোগবিদ্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। তবে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও হতাশা আর আতঙ্কে রয়েছেন তৃণমূলের ‘ইউনিট’যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের দিবস ভিত্তিক কিংবা সভা-সমাবেশে এরপর থেকে কর্মীদের উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে। এতে বিএনপি-জামায়াত, সরকারবিরোধীরা এবং দলের বিতরে ঘাপটি মেরে থাকা সুযোগ-সন্ধ্যানীরা বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠতে পারে।

 

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সরে যেতে হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের নিয়েও কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমাদের একটি ট্রাইব্যুনাল আছে। এখানে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। অতি শিগগিরই আমরা অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করব। তারপরে বিচারের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের সময় শেখ হাসিনা তাদের ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন বলে বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, শনিবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, যুবলীগ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড। আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কতিপয় ব্যাক্তি (জামায়াত-শিবির) দলকে দুর্বল করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে এবার সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগকে দুর্বল করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র বাংলার মাটিতে সফল হবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বদায় যুবলীগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে, যোগ করেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তিনি আরো বলেন, শনিবারের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে আমরা এই তদন্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।