নূরে আলম জীবনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভের কথা শুনে সংগঠনের অভিযোগবিদ্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। তবে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও হতাশা আর আতঙ্কে রয়েছেন তৃণমূলের ‘ইউনিট’ যুবলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের দিবস ভিত্তিক কিংবা সভা-সমাবেশে এরপর থেকে কর্মীদের উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে। এতে বিএনপি-জামায়াত, সরকারবিরোধীরা এবং দলের বিতরে ঘাপটি মেরে থাকা সুযোগ-সন্ধ্যানীরা বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠতে পারে। অন্যদিকে সত্যিকার অর্থে যারা যুবলীগকে ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত হয়ে রাতারাতি গাড়ি বাড়ির মালিক হয়ে অপরাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের শাস্তি দাবি করছেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে সরে যেতে হয়েছে। শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগ নেতাদের নিয়েও কথা বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমাদের একটি ট্রাইব্যুনাল আছে। এখানে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়। অতি শিগগিরই আমরা অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করব। তারপরে বিচারের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের সময় শেখ হাসিনা তাদের ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন বলে বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, শনিবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, যুবলীগ হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড। আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কতিপয় ব্যাক্তি (জামায়াত-শিবির) দলকে দুর্বল করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এরই অংশ হিসেবে এবার সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগকে দুর্বল করতে উঠে-পড়ে লেগেছে। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র বাংলার মাটিতে সফল হবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বদায় যুবলীগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে, যোগ করেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তিনি আরো বলেন, শনিবারের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে আমরা এই তদন্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সম্রাট প্রসঙ্গে আলোচনায়নিজেদের  ভুল স্বীকার করে, নিজের ফেসবুকে স্টাটাস দিয়েছেন যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক একেএম মমিনুল হক সাঈদ।

 

তিনি নেত্রীর প্রতি লিখেন, রাষ্ট্রনায়ক আপনার বিষয়ে যে মানুষটি আপসহীন। যার ভালোবাসায় আজ ঢাকার ১০লক্ষ যুবক একত্র। তার ভুল নেই। ভুল করছি আমরা, যারা তার সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের আখের গুছাতে অপকর্ম করে নাম ভাঙ্গাচ্ছি ঈসমাইল চৌধুরী সম্রাট এর, শাস্তি পেলে তারাই পাবে। “ইনশাআল্লাহ।
তিনি ২০০১ সাল তথা পরবর্তী সময়গুলোতে সম্রাটের দলের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে লিখেছন, ২০০১ সালে চারদলীয় জামাত জঙ্গি সরকার যখন ক্ষমতায় এসে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মীসহ সংখ্যালঘু উপর নির্যাতন শুরু করে তখন সকল নির্যাতিতদের গন্তব্য হয়ে উঠে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।
যখন অনেকেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কর্মিদের পাশে দাঁড়াতে সাহস করেনি। ওই সময় নিজের সকল গচ্ছিত অর্থ শেষ করে মায়ের গয়না বিক্রি করে কাছের মানুষদের হতে চড়া সুধে অর্থ নিয়ে দুঃসময় এর কর্মীদের জন্য লঙ্গরখানা, চিকিৎসাসহ থাকার ব্যবস্থা করেছিলো আপনার এক ক্ষুদ্র পাগলা কর্মী যার নাম ঈসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তার সাক্ষী আপনি, মহান রাব্বুল আল- আমিন ও তখনকার /এখনকার বড় বড় নেতারা।
জানা যায়, সম্রাটকে ব্যবহার করে যারা রাতারাতি বিত্তশালী হয়েছে, যারা সম্রাটের নাম ভাঙিয়ে অপরাজনীতিতে জড়িয়েছে। তাদের কারনেই সম্রাটকে আজ পুরুস্কারের বদলে তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে সম্রাট প্রধানমন্ত্রীর গুড বুকে ছিল, আজ কেন তৃণমূলে হতাশা। যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী চায় ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অভিভাবক হিসেবে। তবে যাদের কারনে, বা অতি উৎসাহে যুবলীগের যে কালিমা লেপন হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত হোক। এমনটাই আশাবাদী তৃণমূল যুবলীগ।