আনলিমিটেড নিউজঃ দেশের যেসব বীমা কোম্পানি এখনো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি সেসব কোম্পানিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীমা খাতের উদ্যোক্তারাও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে যেসব কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না তাদের লাইসেন্স প্রাথমিকভাবে সাময়িক বাতিল করা হবে। তারপর কয়েকটি কোম্পানি মিলে একীভুত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে পারবে না তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। দেশে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি মিলে মোট ৭৮টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং নন লাইফ ইনন্স্যুরেন্স আছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারে ৪৭টি তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাকী ৩১টি শেয়ার বাজারের বাইরে রয়েছে। রবিবার দেশের সকল বীমা কোম্পানিগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

 

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বীমা খাতের উদ্যোক্তারা দেশের সকল ফ্ল্যাট এবং আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন বীমার আওতায় আনার যে দাবী জানিয়েছেন সেটিও ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। উন্নত বিশ্বে শুধু মানুষ ও প্রোপার্টি নয়, তাদের অনেক প্রাণীরও ইন্সুরেন্স থাকে। আমাদের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে দেশকে একটি টেকসই অবস্থানে নিতে বীমা খাতকে অবশ্যই আশানুরূপ জায়গায় নিতে হবে। বীমা খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের দুর্ঘটনা ইন্সুরেন্স কাভার করতে হবে। যে গাড়িতে করে অফিসে সেই গাড়ীর ইন্সুরেন্স করতে হবে। প্রত্যেকটা উঁচু বিল্ডিং হোক আর নীচু বিল্ডিং হোক শতভাগ ইন্সুরেন্সের আওতায় আসতে হবে। যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও একটি টেকসই অবস্থানে পৌছে যেতে পারবে। এই খাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই খাত থেকে স্কলারশিপ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এখন আমরা ইন্স্যুরেন্স খাত থেকে সুবিধা নিতে চাই। সবাই যেন লাভবান হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয়মন্ত্রী বলেন, বীমার প্রিমিয়াম আদায়কারী মাঠ কর্মীকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন দেওয়া যাবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়ার সময় বাড়তি অর্থ আদায় করা যাবে না। যদি কেউ বাড়তি আদায় করেন তাহলে তাদের লাইসেন্স পর্য়ন্ত বাতিল হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী বছরের থেকে ১ মার্চ প্রতিবছর বীমা দিবস পালন করা হবে।

 

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বীমা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারি এবং বাংলাদেশ বীমা এসোসিয়েশন সভাপতি শেখ কবির হোসেনসহ বীমা কোম্পানিগুলোর সকল এমডি ও চেয়ারম্যানগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।