আনলিমিটেড নিউজঃ বাংলাদেশে ক্রেডিট ইউনিয়ন সমূহের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিঃ (কাল্ব) এর উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী “বাংলাদেশ ক্রেডিট ইউনিয়ন ফোরাম-২০১৯ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি।

 

 

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি সর্বপ্রথমে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির মুক্তিদাতা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি, যার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম এবং সর্বশেষ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এই বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা পেয়েছিল এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে, একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে তার কৃষ্ঠি, তার ভাষা, তার সংস্কৃতি, তার আত্মপরিচয় আমরা দিতে পারি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অকাতরে জীবন দান করে গেছেন সেই বীর সেনানী মহান মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতি ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় দুই লক্ষ নিবন্ধিত সমবায় সমিতির মধ্যে শ’খানেক সমিতির কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কারনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের উচিত হবে শুধু আইনগত নয়, সর্বশক্তি দিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা। সমবায়ের স্বাভাবিক বিকাশে যে সকল প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বিশেষ করে আয়ের উপর ১৫% কর আমি এ বিষয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। উনারা আমাকে আশস্থ করেছেন আগামী বাজেটে এই কর যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সমবায়ের নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গ্রুপ বিদ্যমান। সেই পুজিবাদী গ্রুপ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মাইক্রো ক্রেডিট এর নামে সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বিকল্প হিসেবে সমবায়কে আবার জোরদার করেছে এবং আমার বাড়ী আমার খামার এর মত প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করেছেন। তবে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে, সজাগ হতে হবে। আমাদের যে কাজ-কর্ম তার স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জবাবদিহীতা এবং সু-ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমবায়কে পরিচিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি যোগ্য ও বলিষ্ট নেতৃত্বের মাধ্যমে সমবায়কে সু-প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

 

আমরা জানি সমবায়ীদের জন্য আজকে অনুষ্ঠানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জাতির পিতা স্বাধীনতার পরে প্রথম যে সংবিধান রচনা করেন, সেখানেই তিনি সমবায়কে অর্ন্তভূক্ত করেছিন। এর আগেই আমাদের বিশ্বরকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন কুষ্ঠিয়ার শিলাইদহে এবং পাবনা শাহজাদপুরে জামিদারী দেখাশুনা করতেন, তখন তিনি আধুনিক চাষাবাদের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং কৃষি ব্যবস্থায় সমবায়কে প্রয়োগ করেছিলেন। সমবায় বিষয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ রয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, একমাত্র সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে এই জাতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বা ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় অধ্যক্ষ আকতার হামিদ খান সমবায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য কুমিল্লায় বার্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমাদের জাতির পিতা বগুড়ায় আরডিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব কাজের মূল লক্ষ্য ছিল, সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করা। বঙ্গবন্ধু সর্বশেষ যে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, সেখানে অনেকটাই নির্ভর করেছিল সমবায়ের উপর। যে কারনে তিনি বলেছিলেন, সমাজ হবে সমবায় ভিত্তিক। কৃষি, কুটিরশিল্প সবকিছু তিনি সমবায়ের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ধনবাদী সমাজ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক বৈষম্যের মাধ্যমে শোষক শ্রেণীর মুষ্টিমেয় লোকদের হাতে অর্থ যাতে না চলে যায়। এদেশের মুলশক্তি কৃষক বা সাধারণ মানুষ যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে এর সমাধান করার জন্য তিনি সমবায়কে অবলম্বন করেছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার -২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম, কাল্ব চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জোনাস ঢাকী, এসোসিয়েশন অব এশিয়ান কনফেডারেশন অব ক্রেডিট ইউনিয়ন (আকু) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিস এলিনেটা ভি সানরকে লেনী।