অছাত্র, বিবাহিত ছাত্রলীগ নেতার সন্তানকে নিয়ে জন্মদিন উদযাপন!

আনলিমিটেড নিউজ বিশেষঃ সিনিয়র নেতাদের ব্যর্থতা, অবৈধ লেনদেনের সুবিধাসহ নানা অভিযোগে দাপটের সঙে সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ অমান্য করে, সংগঠনের নিয়ম ভঙ্গ করে পদ আগলে রেখেছেন সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহরিয়া।

 

 

বয়স নেই, বিবাহিত, সন্তানের জনক, কর্মজীবি যে, সে কিভাবে একটি থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্বে থাকে; এমনটাই প্রশ্ন নিবেদিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মনে। যদিও এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আনিসুর রহমান আনিস ও আনিছুজ্জামান রানা এ কমিটি দিয়ে গেলেও এখনো বহাল রয়েছে কিভাবে এ ইউনিট এমনটাই প্রশ্ন সবার।

 

 

যারা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদেশ অমান্য করে, তারা ছাত্রলীগকে কি দিবে? সংগঠনের কোন নিয়মে যে পরে না, সে কিভাবে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকে?

 

 

সম্প্রতি নিজের সন্তানকে নিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করেছে সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহরিয়া।

 

 

 

আর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন আহমেদ বলেন, লজ্জা থাকলে আর ছাত্রলীগ করতো না। প্রধানমন্ত্রীর আদেশ নির্দেশ যারা মানে না তারা কিসের ছাত্রলীগ নেতা?

 

 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান টুটুল বলেছেন, বাবার দায়িত্ব ছেলেকে নিতে হবে তাই প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।

 

 

সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলী সৌরভ বলেন, ভাই বড় ভাই তো বলে,এক বাচ্চা হলে সাধারণ সম্পাদক আর দুই বাচ্চা হলে সভাপতি।

 

 

এ বিষয়ে জানতে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসানকে কল করা হলেও তিনি কল ধরেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের এক সহ-সভাপতি জানান, সবুজবাগ থানা কমিটি থাকার কোন যোগ্যতা নেই, কেন আছে জানি না, এ কমিটি আদো ভাঙবে কি না জানি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন প্রেসিডেন্ট , সেক্রেটারি।

 

 

অভিযোগ রয়েছে অবৈধ লেনদেনে টিকে আছ এ নেতা। তার নেতা হওয়ার কৌশল বা পদটি ছিল অর্থের লেনদেনে। তিনি মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে কেন থানার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন? অভিযোগ আছে মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদকে টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই শাহরিয়া। সেই সময় অনেক যোগ্যদের অযোগ্য করে টাকার শক্তিতে নেতা হয়ে যায় এই শাহরিয়া। যোগ্যতার দৌড়ে ইফতেখার আহমেদ পাপ্পু এগিয়ে থাকলেও নেতা হতে পারেন নি তিনি। অভিমানে ছাত্রলীগের রাজনীতি ছাড়লেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি ছাড়েননি পাপ্পু। কোন পদ ছাড়াই নিজের অনুসারীদের নিয়ে দলের প্রতিটি প্রোগ্রামে ব্যাপক শোডাউনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে সে।

 

 

অযোগ্যরা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিলে যা হয়। জানা যায় মোস্তাফিজুর রহমান শাহরিয়া শিশু কিশোর একাডেমি নামে একটি ক্লাবের কোচ ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে খেলার মাঠ দখল করে প্রশিক্ষন ক্যাম্প বানিয়েছে। যেখানে বাচ্চারা খেলতে পারে না, সেখানে কেন প্রশিক্ষন ক্যাম্প? আর এ প্রশিক্ষনের নামে পকেট ভারী হচ্ছে ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় এ নেতার বিষয়ে জোড়ালো বা সরাসরি কোন প্রতিবাদ কেউ করতে পারছে না।

 

বিভিন্ন ওয়ার্ডে এক কমিটির পরিবর্তে আরেক কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগকে হাস্যকর করেছে, সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগ। জানা যায়, ত্যাগীদের বাদ জামায়াত বিএনপি ঘরোয়াদের ওয়ার্ড নেতার পরিচয় তুলে দিয়েছেন। সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না দিলেও নামে বেনামে অনেকেই নেতার পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেরাচ্ছে।

 

এমন এক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ করা আছে তবে ঘোষণা হয়নি। কবে হবে, কত সদস্যের কিছুই জানাতে পারেনি সে। তৃনমূল ছাত্রলীগের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওয়ার্ডে একের পর এক নেতা পরিবর্তন হলেও থানা কেন বেহাল অবস্থায়। ছাত্রলীগের তৃণমূলকে নেতৃত্ব শূন্য করে ফেলছে দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন কমিটি নেতৃত্ব। এ থানা ছাত্রলীগের যারা পরিচয় দিচ্ছেন তারা বেশির ভাগই কর্মজীবী, বিবাহিত, অছাত্র। যারা অযোগ্য তাদের নেতৃত্ব কেমন হবে এমনটাই প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেকের কেন্দুবিন্দু বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আর  রাজধানীতে সেই ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট এমন অবস্থা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। সবার প্রশ্ন ছাত্রলীগ কি অভিভাবক শূন্য?