সেপ্টেম্বর মাসে বসেছে পোশাকখাত সংশ্লিষ্ট তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

আনলিমিটেড নিউজ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বসেছে পোশাকখাত সংশ্লিষ্ট তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। ৪ থেকে ৭ সেপ্টম্বর চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)।

 

 

প্রদর্শনী তিনটির মধ্যে রয়েছে- ‘২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ-২০১৯’, ‘১৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৯’ এবং ‘৩৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৯’।

 

 

 

সোমবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানায় প্রদর্শনী তিনটির আয়োজক সেমস গ্লোবাল।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন- সেমস গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক তানভির কামরুল ইসলাম, মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান নাইম শরিফ, এজিএম কে এম খায়রুল হাসান আরিফ।

 

 

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়,প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। এছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি রুমানা হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনী তিনটির সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন সেমস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেহেরুন এন ইসলাম। তিনি জানান, প্রদর্শনীগুলো প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

 

 

এতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, জাপান, তুরস্ক, ইতালি, শ্রীলঙ্কাসহ মোট ২৫টি দেশের প্রায় ১২৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৫০০টি স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে।

 

 

 

প্রদর্শনী তিনটিকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প খাতের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী দাবি করে তিনি বলেন, প্রদর্শনীর দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, সুতা, কাপড়ের বিশাল সমাহার। এছাড়া কাপড় উৎপাদক মেশিনারিজ, নতুন নতুন টেকনোলজি ও রাসায়নিক দ্রব্যের সমাহারও থাকবে।

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রদর্শনীগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দর্শক, ভোক্তা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ানস্টপ ও যুগোপযোগী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে কার্যকরী ও ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

 

 

 

এছাড়া ভোক্তা, উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সরাসরি সাক্ষাৎ এবং আলাপচারিতার ফলে সকলের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে এবং নতুন ব্যবসায়কি খাত প্রসার করবে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে- বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

 

 

 

মেহেরুন এন ইসলাম জানান, গত অর্থবছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক রফতানি শিল্পে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা বার্ষিক আয়ের ৮০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

 

 

 

‘বর্তমানে এ শিল্প থেকে বছরে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হচ্ছে যা ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোশাকশিল্প খাতে প্রায় ৪৪ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী’ বলেন সেমস গ্লোবারের এমডি।

 

 

 

তিনি বলেন, টেক্সটাইল শিল্পগুলো বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দ্রুত অগ্রগতির ফলে টেক্সটাইল শিল্প এখন রাসায়নিক দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখোমুখি হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয় যে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পগুলো প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন মেট্রিকটন রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করবে এবং চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি দ্বারা পূরণ করা হবে। বাংলাদেশের এ খাতে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে সরকার এরইমধ্যে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার গত ১০ বছরে দেশের দারিদ্র্য ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, এতে পোশাকখাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এছাড়া এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে ও দক্ষ মানবশক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।