আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার সর্বোত্তম উপায়; জিকিরের গুরুত্ব ও ফজিলত

আনলিমিটেড নিউজ ডেস্ক: নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার সর্বোত্তম উপায় হলো অধিক পরিমাণে জিকির করা। এজন্য হজ সমাপনের পরপরই আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে জিকিরে মাশগুল হতে বলেছেন। ইরশাদ হচ্ছে ‘যখন হজের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ করবে।’ (সুরা বাকারা : ২০০)

 

 

 

জিকির সর্বোত্তম আমল : জিকিরের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে না তাদের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (বুখারি : ৬০৪৪)। সাহাবিদের উদ্দেশে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন উত্তম আমলের কথা বলে দেব না? যা তোমাদের প্রভুর নিকট অত্যন্ত পবিত্র, যা সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যয় করা অপেক্ষা উত্তম আর শত্রুর মোকাবেলায় যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাদের ঘাড়ে আঘাত করা আর তারা তোমাদের ঘাড়ে আঘাত করার চেয়েও উত্তম? সাহাবাগণ (রা.) বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন। তিনি বললেনÑ তা হলো আল্লাহ তায়ালার জিকির।’ (ইবনে মাজা : ৩৭৯০)। নিজেকে এমনভাবে জিকিরে অভ্যস্ত করা উচিত যাতে মৃত্যুর সময় জবানে জিকির জারি থাকে। হাদিসে এসেছে, ‘একবার হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাসুলকে (সা.) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সর্বোত্তম আমল কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, ‘মৃত্যুর সময় যেন তোমার জিহবা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে।’ (আল-মুজামুল কাবির : ১৮১)

 

 

 

জিকিরে মানসিক প্রশান্তি : জিকির ছেড়ে দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ভালো থাকা যায় না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।’ (সুরা তহা : ১২৪)। মানসিক প্রশান্তির জন্যও জিকির এক মহৌষধ। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা রাদ : ২৮)

 

 

 

শয়তান থেকে আত্মরক্ষা : শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার রক্ষামন্ত্র হলো এই জিকির। জিকির ছেড়ে দিলে বান্দা আল্লাহর জিম্মাদারি থেকে বেরিয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সেই হয় তার সহচর।’ (সুরা জুখরুফ : ৩৬)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ বলবে, সে দশটি গোলাম আজাদ করার সমান সাওয়াব লাভ করবে। আর তার নামে লেখা হবে ১০০টি সওয়াব এবং তার আমল থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে। আর সে সেদিন সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকবে এবং কিয়ামতের দিন কেউ তার চেয়ে ভালো আমল আনতে পারবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তার থেকে বেশি নেক আমল করেছে।’ (বুখারি : ৬০৪০)

 

 

 

যার কলবে আল্লাহর জিকির জারি থাকে সেখানে শয়তান থাকতে পারে না। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘শয়তান আদম সন্তানের কলবে জেঁকে বসে থাকে। যখনই আল্লাহর জিকির করে সে ছিটকে পড়ে। আর যখনই কলবের জিকির বন্ধ থাকে সে কুমন্ত্রণা দেয়।’ (মুসান্নাফে আবি শায়বাহ : ৩৫৯১৯)

 

 

 

গুনাহ মার্জনার জিকির : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আল হামদুলিল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ে এবং ১০০ বার পূর্ণ করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পড়ে, তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও তা সাগরের ফেনাপুঞ্জের সমতুল্য হয়।’ (মুসলিম : ১৩৮০)

 

 

 

জিকিরে আসে সফলতা : জিকিরে মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয় আর জিকির বিমুখতায় আল্লাহর সঙ্গে বান্দার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আল্লাহর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া মানব জীবনের বড় ব্যর্থতা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে।’

 

 

 

যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মুনাফিকুন : ৯)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর কয়েকটি কালেমা এমন আছে যেগুলো পাঠকারী ব্যর্থ হয় না।’ সে কালেমাগুলো হচ্ছে, প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার ‘আল হামদুলিল্লাহ’ ও ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা। (মুসলিম : ১৩৭৭)

 

 

 

আল্লাহ তায়ালার জিকিরেই মানুষের শান্তি ও মুক্তি। জিকিরই হচ্ছে পার্থিব জীবনে সফলতার সোপান। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা আনফাল : ৪৫)। তাই আমরা সদা সর্বদা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকব। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।

 

 

লেখক : প্রাবন্ধিক
সূত্র, সময়ের আলো