টোকাইমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ঘরে পৌছে দিলেন তবারক!

বিশেষ নিউজ:: শোকাবহ আগস্ট মাস, বাঙালির হৃদয়ে রক্তক্ষরনের একটি মাস। জাতি তার পিতাকে হারিয়েছে, বাংলাদেশ হারিয়েছে অগ্রগতির মহানায়ককে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্টকে জাতিয় শোক দিবস হিসেবে পালন করছে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে সকলে। তবে ১৫ আগস্টকে স্বরণ করে মিলাদ মাহফিল, তবারক বিতরনসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে বিস্তার থাকলেও টোকাইমন্ত্রী খ্যাত র‌্যাক এডুকেশন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান মিজান নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে মানবতার পতাকা তুলে নিজেকে করেছে টোকাই। সাধারণ মানুষকে ভালবেসে, তাদের মুখে হাসি ফুটাতে, কখনো একমুঠো ভাত তুলে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। মানুষের ভালবাসা কুরাতেই তিনি টোকাই।

 

 

 

 

তেমনি এবারের ১৫ আগস্ট বৃষ্টিতে ভিজে, সাধারণ অসহায় গরীবদের মাঝে নিজে কাধে বয়ে বাড়ি বাড়ি নিয়ে গেছেন জাতির পিতাকে স্বরণে মিলাদের তবারক। পঙ্গু, বয়স্ক, শিশু সব বয়সের মানুষের মাঝে তবারক বিতরন করেছেন তিনি। লোক দেখানো বা নিজের লোকদেরই খাবরের জন্য তবারক নয়, সাধারণ মানুষের জন্য যে খাবার তা সকলের মাঝে নিজ হাতে পৌছে দেয়াই ছিল তার লক্ষ্য। যেখানে তিনি সফল। মানুষের সেবার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে র‌্যাক এডুকেশন ফাউন্ডেশন।

 

 

 

উল্লেখ্য, শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিন জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ দিনে বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্ক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তা আর ক্ষমতালিপ্সু কতিপয় রাজনীতিক। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের নারী-শিশুরাও সেদিন রেহাই পায়নি ঘৃণ্য কাপুরুষ এই ঘাতকচক্রের হাত থেকে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। জনমানস থেকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে ঘাতকরা ৪৪ বছর আগে যাকে হত্যা করেছিল, বাঙালির হৃদয়ে অবিনাশী হয়ে আছেন।

 

 

 

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালনে সারাদেশে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে ১৫ আগস্টে শাহাদাৎবরণকারী জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। টুঙ্গীপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ও ঢাকায় ৩২ নম্বরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তার জনককে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

 

 

বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে। জাতির পিতা ও তার পরিবারবর্গের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দীর্ঘ ৩৪ বছরেরও বেশি সময় পর সেই কলঙ্ক থেকে জাতির দায়মুক্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতির জনক হত্যা, ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলের ঘৃণ্য ও তমসাচ্ছন্ন অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাঙালির বিজয়ের অভিযাত্রাও আরেক ধাপ এগিয়েছে। বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

 

 

তবারক বিতরনে সংগঠনের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা রানা, সবুজবাগ থানা কমিটির সভাপতি এডভোকেট জসিম মজুমদার ও সাধারন সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেনসহ আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ মইিউদ্দীন, মোঃ জজ মিয়া, রুবেল মিয়া ও মো: লুৎফর।