হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই কাপ্তান বাজার মসজিদে আধিপত্য বিস্তার করছে সিন্ডিকেট

রাজধানীর কাপ্তান বাজার জামে মসজিদ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে হরিলুটের মহা উৎসব। ২০০৯ সালে তৈরি হওয়া জটিলতা আস্তে আস্তে ডানা মেলে রূপ নিয়েছে নোংরা মানসিকতায়। একে অপরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ করা সহ, মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে মসজিদের বিষয় নিয়ে। ২০০৯ সালে তৎকালিন মোতওয়াল্লি মোঃ জিয়াউল হক যখন দায়িত্ব থেকে বাদ পড়ে, নতুন মোতওয়াল্লি হিসেবে হাজী মো. বাহাউদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখনই শারীরীক সমস্যায় দায়িত্ব থেকে সড়ে যেতে চায় ১৯৮৭ থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা হাজী তাজ মোহাম্মদ।

জানা যায়, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে আসা তাজ মোহাম্মদ তিনবার স্টক করেছেন। ২০০৯ সালে যখন তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান তখন স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ, মুসল্লিগণ, কাউন্সিলর, রাজনৈতিক ব্যক্তি, মসজিদ কমিটিসহ ওয়াকফ্ কতৃপক্ষও তাকে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ করেন। কিন্তু রহস্যময় হলেও সত্য ২০১৮ সালে একটি চক্র সংঘবদ্ধভাবে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধার উপর দুর্নীতির অভিযোগ আনে ওয়াকফ্ বরাবর, যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে ওয়াকফ্ প্রসাশক কোন ধরনের অভিযোগের বিন্দু পরিমান সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

ওয়াকফ্’র এ অডিট এবং সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি চক্রটি। চক্রটি ছলে, বলে, কৌশলে নানা ভাবে তাজ মোহাম্মদ এবং তাজ মোহাম্মদের ছেলেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্যনে রাজি না করাতে পেরে ১শ ২০ কোটি টাকার মামলা করা হয়। যে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ করতে একটি ইস্যুই যথেষ্ট, তা হলো হাজী তাজ মোহাম্মদ এর ছেলে তানভির আহমেদ তপুকে মামলায় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে তানভির আহমেদ কখনোই মসজিদ কমিটির সদস্যও ছিলেন না, তাহলে কিভাবে আইন শৃংখলা বাহিনী তদন্ত করে কোর্টে কি রিপোর্ট দিয়েছে? যেখানে ২০০৯ সালে নতুন মোতওয়াল্লি হিসেবে বাহাউদ্দীন দায়িত্ব নেওয়ার সময় সকল হিসাব বুঝে নেন, তৎকালীন সময় যেখানে কোন ধরনের অভিযোগ ছিল না কিন্তু কয়েকবছরের মাথায় ১শ ২০ কোটি টাকার অভিযোগ কিভাবে? রহস্য এ প্রশ্নটির উত্তরের অন্তরালে রয়েছে বাহাউদ্দীন দায়িত্ব নেয়ার বছর কয়েক পর থেকেই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পানির বিল বকেয়া সহ নানা কিছুতে অনিয়ম সৃষ্টি হতে থাকে। এ সবই কি তাজ মোহাম্মদ করেছেন? যখন যৌবনের বয়স ছিল তখন না করে, এ বয়সের শেষ প্রান্তে এসে কেন? সূত্র বলছে, চক্রটির কাজে সঙি না হয়ে আল্লাহর ঘর মসজিদ এবং এর সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর মনোভাবই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাজ মোহাম্মদের পরিবারের জন্য।মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া কোন পথ পাচ্ছে না পরিবারটি।

কারণ যে ওয়াকফ্ ২০১৮ সালে কোন অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পায়নি, ২০১৯ সালে কোন এসে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে সংস্থাটি। অসহায় পরিবারটি দাবি করছে অর্থের কাছে আজ সব ভাল, খারাপ হচ্ছে। আর খারাপ’রা ভালর স্থান নিচ্ছে। যার বিচার আল্লাহ নিজেই করবেন বলে বিশ্বাস তাদের। এ মসজিদ নিয়ে হাইকোর্টের নিদের্শনা রয়েছে যে, মামলা চলাকালীন সময় বা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়কে অমান্য করে মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী তাজ মোহাম্মদকে সড়িয়ে মোহাম্মদ বুলু দায়িত্ব নেন, তাজ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ছড়াতে থাকে নানা ধরনের সত্য মিথ্যার গল্প। যদিও সম্প্রতি স্থানীয় কাউন্সিলর এ মসজিদের দায়িত্ব থেকে মোহাম্মদ বুলুকে সড়িয়ে নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা যায়। তবে মোহাম্মদ বুলু যে ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছে তার কোনো হিসেব নিতে পারেননি কাউন্সিলর মান্নাফি।

মোহাম্মদ বুলু দাবি করেন মান্নাফির ছেলে যিনি এসএসএফ’এ কর্মরত আছেন তার কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ব্যক্তি হয়ে একটি চলমান মামলার বিষয়ে জড়ালেন তিনি।অন্যদিকে হাইকোর্টের এমন আদেশ থাকা শর্তেও ওয়াকফ্ প্রশাসক সিনিয়র মোতওয়াল্লি হিসেবে একজনকে স্থান দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠেছে অর্থ এবং চক্রটির হাত কতোটা শক্তিশালী।