সংশোধিত কপিরাইট আইন : অংশীজনের প্রত্যাশা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আনলিমিটেড নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস ও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি যৌথ উদ্যোগে ‘সংশোধিত কপিরাইট আইন : অংশীজনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচানোর জন্যই কপিরাইট নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করতে হবে। কপিরাইট আইনে টাস্কফোর্স গঠন এবং কার্যকর করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন। নীলক্ষেতের পাইরেসি রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়’-এর কথা বলেছেন। ১৮৭৩ সালে ভিক্টর হুগো ফ্রান্সে প্রথম কপিরাইট নিয়ে কথা বলেন। তবে এ উপমহাদেশে ১৭১০ সালে প্রথম কপিরাইটের কথা এসেছে, পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে এবং ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কপিরাইট অফিস স্থাপনের কথা বলেছেন। আইনের সংশোধন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন-বিয়োজনের সাথে সাথে তিনি সকলের নৈতিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কপিরাইট লঙ্ঘিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকাশকরাই। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লেখক-প্রকাশক ও গুণীজনদের অংশগ্রহণে বাংলা একাডেমিকে এ ধরনের আয়াজনের কথা বলেছেন। সবশেষে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা, সচেতনতা কামনা করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি, জাহানারা পারভীন, মহাপরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাফর রাজা চৌধুরী, রেজিস্ট্রার অফ কপিরাইট, মিনার মনসুর, পরিচালক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহসভাপতি খান মাহবুব। প্রবন্ধে তিনি সংশোধিত কপিরাইট আইনের মাধ্যমে যেন সৃজনশীল প্রকাশনা সঠিক বিধিবিধানে পরিচালনার মাধ্যমে এই সেক্টরের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটে সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সৃজনশীল প্রকাশনার ক্ষেত্রে পাইরেসি রোধ ও সৃজনশীল গ্রন্থ উন্নয়নে প্রবন্ধে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সেমিনারের মুক্ত আলোচনা পর্বে মহাকাল প্রকাশনীর মনিরুজ্জামান চলিত ভাষায় আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন এবং শুধুমাত্র প্রকাশকদের জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন।
তা¤্রলিপি প্রকাশন-এর এ কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, লেখক প্রকাশক যৌথভাবে একটি বইয়ের কপিরাইট থাকা প্রয়োজন। মুক্তচিন্তা প্রকাশন-এর সিহাব বাহাদুর নীলক্ষেতের পাইরেসি রোধে বলেন, নীলক্ষেত কী রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী? চারুলিপি প্রকাশন-এর স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবীর আএসবিন সহজীকরণের কথা বলেন। নীলক্ষেতের পাইরেসির কথা বলেন।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র সভাপতি ফরিদ আহমেদের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এই সময়ের প্রকাশকরা সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান, কারণ তারা সমিতির অফিসে এসে কপিরাইট বিষয় তাদের মতামত ও আইনের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও অন্যান্য দিক নিয়ে ভূমিকা রাখতে পারছেন। সমিতির অফিসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক পরিবেশে প্রকাশকরা তাদের মতামত জানাতে পারছেন।  জন্য প্রকাশকদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানানঃ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুল হক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির যুগ্মনির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পল্টন কার্যালয়ে (২৭ জুলাই ২০১৯, শনিবার বিকেল ৫.৩০ মিনিটে) সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।