দরজায় নির্বাচনের হাওয়া কড়া নারলেও শঙ্কা ও ভয় কাটেনি বিএনপি নেতাকর্মীদের মনে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাঙ্গা থাকলেও সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সর্তক অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি বরাবর নির্বাচন কমিশন ও সুষ্ঠ পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসলেও, আওয়ামী লীগ সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচনে আশাবাদী। ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দল ২৩১ আসনে নৌকার টিকিট দিয়েছে। বাকী আসন গুলোতে মহাজোটের প্রার্থী দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে কৌশলগত কারণে জাতিয়তাবাদী দল বিএনপি আসন প্রতি একাদিক প্রার্থী ও আলাদা ভাবে ঐক্যফন্ট ও বিশ দলের প্রার্থী দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নে তেমন কোন চমক দেখাতে পারেনি বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে কৌশলগত কারণে দলের ৫ হেভিওয়েট এর জায়গায় এসেছে নতুন মুখ। বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকেবের হয়ে আসা একাধিক নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নিজেদের অনূকুলে নেয়ার চেষ্টা করলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রত্যয়ন পেয়েও মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল।

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আউয়াল মিন্টু বলেন, আমার কখনোই নির্বাচন করার শখ ছিল না। পরিবারের মধ্যে আমার বাবা-ভাই নির্বাচন করেছেন। অতীতে আমি কখনও নির্বাচনে অংশ নিইনি। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা গ্রেফতার-মামলা-হয়রানির মুখে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এরকম অবস্থায় আমি মনে করেছি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে নির্বাচন পরিচালনায় আমার সময় ও অবদান রাখা উচিৎ। সেজন্য দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমি নির্বাচন না করে দলের নির্বাচনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ নির্বাচন পরিচালনায় দলে এখন পর্যাপ্ত ও অভিজ্ঞ লোকজনের অভাব রয়েছে। তাকে এবার ফেনী-৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো।

 

উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সারাদেশে ৩০০ আসনে ৩০৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৩৯টি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অন্তত ১০০ জন।
এদিকে প্রতিটি আসন কেন্দ্রীক রয়েছে ভোটারদের জটিল হিসাব। প্রার্থীরাও জয়ের ব্যাপারে যতোটা আশাবাদী, কোথাও কোথাও তৃণমূলে ততোটাই ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় দেখতে চায় দলকে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে এক হলেও কোন কোন ব্যক্তির সাথে সহজে আপশ করতে চাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও বিক্ষোভও করতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের।

 

ঢাকা-৫ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লা নৌকা পেলেও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনুরুল ইসলাম মনু’কেও নৌকার মনোনয়নের তালিকায় রেখেছে দল। এদিকে, ৯ম সংসদ নির্বাচনে জেলে থেকে হাবিবুর রহমান মোল্লা জয়লাভ করেন। কিন্তু বর্তমানে শারীরিক ভাবে দুর্বল হলেও নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত তিনি। সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বীধাদ্বন্দ্বে, কার পক্ষে কাজ করবেন তারা। স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে বর্তমান সাংসদের বিরুদ্ধে। এদিকে কাজী মনুরুল ইসলাম মনু’র হয়ে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ব্যাপক অংশ। কাজী মনুরুল ইসলাম মনু দলের অবহেলিত কর্মীদের ডেকে বুকে জড়িয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

 

ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব অভিমান থাকলেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য কাজ করছেন আওয়ামী রাজনীতির আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব সাবের হোসেন চৌধুরী। এবারও তিনি নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি তার নির্বাচনি আসনে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের ভেতর কোন্দল মিটিয়ে সকলকে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মাসুদ হাসান শামীম ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফার মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব থাকলেও সাবের হোসেনের কথায় দুজন-দুজনকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। দুজনই নৌকার জয়ের জন্য কাজ করছেন। তাদের দুজনের মিলে যাওয়াতে এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝেও স্বত্বি এসেছে।

 

এ নিয়ে আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা- ৯ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী। এ আসনে সাবের ভাইয়ের বিকল্প নেই। আমাদের গর্ব তিনি, আমাদের সাংসদ বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির উদাহরন তিনি। আশাকরি আমাদের ঢাকা-৯ আসনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে পারবো।

 

অন্যদিকে সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশ্রাফুজ্জামান ফরিদের সঙ্গে সাবের হোসেন চৌধুরীর নিরব দ্বন্দ্ব প্রতিয়মান। থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও এমপির কোন প্রোগ্রামে থাকছেন না তিনি। তার না থাকার কারণ হিসেবে জানা যায়, আশ্রাফুজ্জামান ফরিদও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন, তবে অদৃশ্য কোন কারনে তিনি মনোনয়ন ফরম কিনেননি তিনি। জানা যায়, নৌকার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাই সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে ফরিদের দূরত্ব হওয়ার অন্যতম প্রধান কারন। এদিকে বিএনপি থেকে হাবিব-উন নবী খান সোহেল’কে মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে সোহেল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। জানা যায়, হাবিব-উন নবী খান সোহেলের এ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি না থাকায় কৌশলগত কারনেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক না থাকলেও জোটগতভাবে আসনটি তাদের ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে হতাশা থাকলেও নিরব ভ’মিকা পালন করছে সবাই। জানা যায়, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ঢাকা-৬ আসনের এমপি হয়ে তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারেননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে তার ছিল ব্যাপক দূরত্ব। এ আসনের হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী ও যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বলেন, জোটগত ভাবে আসনটি ফিরোজ ভাই পেয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভাল মানুষ। আমরা আশা করবো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বুকে নিয়েই তিনি কাজ করবেন। এখানে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক রয়েছে। যা তার জয়ের জন্য প্রধান ভ’মিকা রাখবে। আমরা সকলে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করবো।

 

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাশেম রেজাকে না করায় তার পক্ষে ঝাড়ু– মিছিল বের করা হয়েছে। ঝাড়ু– মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। নানা ধরনের মন্তব্য এসেছে ভিডিও’র কমেন্টে। এ নিয়ে আসনটিতে বর্তমান সাংসদ ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি আলী আজগর টগর এর নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হলে সাংসদ তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন সব ঠিক হয়ে যাবে। নৌকার পক্ষে সবাই এক হয়ে কাজ করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

 

দেশের প্রায় প্রতিটি আসনেই ছোট ছোট এমন অনেক কিছুই আছে, যা সেই আসনটি জয়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে যেকোন প্রার্থীর পক্ষেই।

 

বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী দেওয়া হলেও দলের হাই-কমান্ড বা ভাইয়ের (তারেক রহমানের) নিদের্শনায় কোন কোন্দল বা সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

 

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে কঠোর বার্তা রয়েছে নেতাকর্মীদের জন্য, বিশেষ করে প্রার্থীদের জন্য। সকলকে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার যেমন নিদের্শনা রয়েছে তেমনি ঘরে ফেরা নেতাদের নৌকার পক্ষে বের করে আনার নিদের্শনাও রয়েছে প্রার্থীর জন্য।